নো রোনালদো, নো প্রব্লেম

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া মাঠে নামা মানেই একসময় শঙ্কার মেঘ জমত পর্তুগাল শিবিরে। তবে সেই যুগ এখন অতীত।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া মাঠে নামা মানেই একসময় শঙ্কার মেঘ জমত পর্তুগাল শিবিরে। তবে সেই যুগ এখন অতীত। মহাতারকার অনুপস্থিতি আর পর্তুগালের জয়যাত্রায় বাঁধা হতে পারছে না – তা আরও একবার রাজকীয় ভঙ্গিতে প্রমাণ করল পর্তুগিজরা। উয়েফা নেশনস লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ডেনমার্ককে তাদেরই মাঠে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বার্তা দিয়ে রাখল ‘নো রোনালদো, নো প্রবলেম’।

​কোপেনহেগেনের পার্কেন স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগাল প্রমাণ করেছে, ব্যক্তি রোনালদোর ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে তারা এখন এক সুসংগঠিত এবং মারাত্মক আক্রমণাত্মক দল। উইং-ব্যাক এবং মিডফিল্ডারদের চোখধাঁধানো গতি এবং পাসের ঝলকে ম্যাচের প্রথম মুহূর্ত থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে ডেনিশ রক্ষণভাগ।

১২ মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর স্বাগতিকরা সমতায় ফিরলেও পর্তুগালের আক্রমণের ধার কমেনি। রামোস, ভিতিনহা এবং বদলি হিসেবে নামা জোয়াও ফেলিক্সের গোলগুলো প্রমাণ করে পর্তুগিজ ফুটবলের স্কোয়াড ডেপথ এবং প্রতিপক্ষের জালে গোল করার মতো রসদের এখন কোনো অভাব নেই। মাঝমাঠে নতুন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের নেতৃত্বে পুরো দলটি খেলেছে একক সত্তা হয়ে।

হঠাৎ করে ইগো-ক্ল্যাশে রোনালদোর ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়া নিয়ে বিশ্ব জুড়েই কঠোর সমালোচনা হচ্ছে। তবে তার কড়া জবাব যেন স্কোরবোর্ডেই দিয়ে দিল পর্তুগাল। তারকা নির্ভরতা ভুলে আধুনিক ট্রানজিশনাল ফুটবল খেলে চারটি গোল আদায় করে নেওয়া দলটির সামর্থ্যেরই প্রকাশ ঘটায়।

​ডেনমার্ক ঘরের মাঠে ৫৬ শতাংশ বল পজিশন রেখে দুটি গোল করলেও পর্তুগালের ১৯টি শটের সামনে তাদের রক্ষণ স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে। এই জয়ের মাধ্যমে পর্তুগাল কেবল মূল্যবান তিন পয়েন্ট অর্জন করেনি, বরং স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল – রোনালদো ছাড়াও নিজেদের দিনে তারা ইউরোপের যেকোনো পরাশক্তিকে ধরাশায়ী করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link