মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হেরেই আসিয়ান কাপ শুরু করল বাংলাদেশ। থমাস ডুলির অধীনে এটা দ্বিতীয় ম্যাচ, অথচ শুরু থেকেই এই ফর্মেশনে বাংলাদেশ মাঠে ছন্নছাড়া হয়েই খেলল। সেই সুযোগটাই কাজে লাগাল মালয়েশিয়া, একের পর এক শট নিতে থাকল, আঠারো মিনিটে গোলও পেয়ে গেল।
এরপর যা হলো, সেটাকে ম্যাচ না বলে ছেলেখেলা বললেই বরং মানায়। ফিফা র্যাংকিং এ দুই দলের পার্থক্য টা দৃশ্যমান ছিলো মাঠেও, মাঠে প্রায় সব জায়গায় বাংলাদেশকে আউটপ্লে করে গেল মালয়েশিয়া। যেন থমাস ডুলির ট্যাকটিক্সের সাথে তাল মেলাতেই পারছিল না দল।
সাথে যোগ হয়েছে নতুন অভিষেক, ফারহান আলি, সুকি ইতোফুসা, ইউসুফ জিদান। হুট করে দলে ঢুকে কেউই মেলাতে পারছিলেন না বাকিদের সাথে। ফলটা মাঠেই স্পষ্ট, প্রচুর ভুল পাস, নিজেদের ভেতর বোঝাপড়া বলতে গেলে নেইই। বল পায়ে পেলেই একটা দ্বিধা, কাকে দেবে বুঝেই উঠতে পারছিলেন না কেউ।

ডুলি দায়িত্ব নেওয়ার পর স্কোয়াডে বিশাল রদবদল এনেছেন, প্রায় আটটা পরিবর্তন। অথচ ফলাফলে তার ছাপ পড়ল না বিন্দুমাত্র। এই একই গল্প বারবার ফিরে আসছে।
সরাসরি থমাস ডুলিকে দোষ দেওয়াটা তাড়াহুড়ো হবে। আসল অ্যাঙ্গেলটা অন্য জায়গায়, নিজেদের ভেতরের বোঝাপড়ার এই সংকট। কারণ সেটা তৈরি হয়নি, নিজেরা একসাথে খুব বেশি প্র্যাকটিসই করার সুযোগ পাননি। তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশ বিশাল স্বপ্ন দেখেছিল, এতগুলো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি খেলোয়াড় এলেন, নতুন কিছু হবে এই আশায়। কিন্তু ফলাফল সেই পুরোনো ছবিই। মাঠে একসাথে খেলার সেই বোঝাপড়াটাই যেন এখনও অধরা।
ডুলির পরিকল্পনাটা অবশ্য শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। জুনে সান মারিনোর বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের সেই দল থেকে প্রায় আটটা পরিবর্তন এনে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, স্কোয়াডে বড় ধরনের ওভারহল আনতে চান তিনি। তপু বর্মনের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার চোটে ছিটকে যাওয়ার পরও তাড়াহুড়ো করেননি, জিদান, মানিক, সোহেলদের ওপর ভরসা রেখেছেন। আক্রমণভাগে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের যে সংকট, জাত একজন স্ট্রাইকারের অভাব, সেটা মেটাতে দেশে-বিদেশে খুঁজে খুঁজে খেলোয়াড় পরখ করছেন তিনি।

সমস্যা হলো, এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মূল্যটা দিতে হচ্ছে মাঠেই, আর সেটা এখনই। সমর্থকদের রাতারাতি বদলের যে প্রত্যাশা, সেটা বারবার সংযত করার চেষ্টা করেছেন ডুলি। তার কাছে আসিয়ান কাপ মূলত নভেম্বরে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি মঞ্চ, যেখানে তরুণ আর নতুন খেলোয়াড়রা ভুল করবে, শিখবে, তারপর গড়ে উঠবে আসল দলটা। কিন্তু মালয়েশিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে সেই ভুলগুলো এতটাই ঘন ঘন এসেছে যে শেখার চেয়ে হতাশাটাই বড় হয়ে উঠেছে।
তবু একটা কথা মনে রাখা দরকার। এতগুলো নতুন মুখ একসাথে মাঠে নামানো মানেই একটা জুয়া খেলা, আর সেই জুয়ায় প্রথম কিস্তিতেই লোকসান হলে পুরো প্রকল্পকে খারিজ করে দেওয়াটা অন্যায্য। ডুলির আসল পরীক্ষা নভেম্বরে, সাফের মঞ্চে। ততদিনে এই এগারোজন যদি সত্যিই একটা দল হয়ে উঠতে পারেন, আজকের এই ৩-০ হারটাও হয়তো একদিন গল্পের একটা প্রয়োজনীয় অধ্যায় হয়েই থেকে যাবে।












