হতাশার গান শোনাল হামজারা!

সমরাঙ্গনে হামজা চৌধুরিরা নামল, তবে লড়াই ছাড়াই পরাজয়ের শিকলখানি পরে নিল হাতে। ৩-০ গোলের হারটা বেদনার চিহ্ন রেখে গেল। আসিয়ান কাপের সূচনাটা বাংলাদেশের জন্য হলো ভুলে যাওয়ার মতোই।

জোছনায় আলো নেই আর, হতাশার কালো আঁধার। বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য এই লাইনটা উৎসর্গ করা যেতে পারে। যা দৃশ্যমান ছিল চোখের সামনে সেটা যে কেবলই স্বপ্ন ছিল, মালয়েশিয়া চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। সমরাঙ্গনে হামজা চৌধুরিরা নামল, তবে লড়াই ছাড়াই পরাজয়ের শিকলখানি পরে নিল হাতে। ৩-০ গোলের হারটা বেদনার চিহ্ন রেখে গেল। আসিয়ান কাপের সূচনাটা বাংলাদেশের জন্য হলো ভুলে যাওয়ার মতোই।

জয় নয়, অংশগ্রহণই আসল, কখনও কখনও এই কথা বাস্তব। তবে সেই অংশগ্রহণের নেপথ্যে যে লড়াই থাকে, জেতার আকাঙ্ক্ষা, হাল না ছাড়ার মানসিকতা থাকে। তবে বাংলাদেশের পেছনে এগুলো যে নেই। যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়ে আসেনি বাংলাদেশ, আসিয়ান কাপে যে তারা আমন্ত্রিত অতিথি। মাঠের খেলাটাতে সেই পার্থক্য পরিষ্কার রূপ ধারণ করল।

ম্যাচের ১৮তম মিনিটেই মালয়েশিয়ার গোল। তবে এই ১৮ মিনিটের আগের চিত্রপটেও ছিল মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ মাঠে থেকে কোথাও নেই। বলগুলো যে আড়ি করেছে ফুটবলার সাথে। নিয়ন্ত্রণ, বল দখল, আক্রমণ সবখানেই শেষ নামটা মালয়েশিয়া।

৩৭ মিনিটে আরও একবার কেঁপে উঠল বাংলাদেশের জাল। মাঝের সময়টাতেও সেই মালয়েশিয়ারই আধিপত্য। বাংলাদেশের ১১ জন দর্শক হয়ে থেকেছে, দেখেছে প্রতিপক্ষের দাপট। প্রতিপক্ষের ডিবক্সে যেতে হলে সাত সাগর ১৩ নদী পাড়ি দেওয়ার মতো কসরত করতে হয়েছে। তবে সফলতা বলতে ঢুঁ মেরে ফিরে আসা। মালয়েশিয়া শেষ গোলটা করে বিরতি থেকে ফিরে এসে। যতটুকু আশা ছিল বাংলাদেশের জন্য, তার কফিনে শেষ পেরেকটা গেঁথে যায়।

পরের সময়টা অপেক্ষার, কখন খেলাটা শেষ হবে। চেষ্টা চলেছে দুই-একবার। তবে ফুটবল বিধাতা যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের কাছ থেকে। বলটাও আকাশের চাঁদ হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের জন্য। ওটা দেখা যায়, ছোঁয়া যায় না। ফলাফল তাই ৩-০ গোলের এক নির্মম পরাজয়।

নতুন ভোর আসবে বাংলার ফুটবলে। সবাই হাসবে, স্বপ্ন দেখবে। বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে দাপট দেখাবে। না, স্বপ্ন দেখতে বাধা নেই। ছেঁড়া কাঁথায় শুয়েও তো কতজনই স্বপ্ন দেখে। তবে প্রাপ্তির খাতায় কেবলই শূন্য কিংবা শূন্যতা। হামজারা চেষ্টা করছেন, তবে সেই চেষ্টা সফলতা হয়ে কবে ধরা দেবে তা কেউ জানে না। আদৌ ধরা দেবে কি, নাকি হতাশার কাব্য লিখে যাবে কোনো কবি, কিংবা অপারগতা দেয়াল হয়ে থাকবে সফলতার মাঝখানে। উত্তর জানে সময়।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link