ব্রাজিলের কলকাতা সফরের রাজকীয় খাদ্যতালিকা!

ভিনিসিয়াস-রাফিনহাদের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের এই সফরকে ঘিরে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সাম্বা জাদুকরদের যত্ন-আত্তি ও আপ্যায়নে যেন সামান্যতম খামতি না থাকে, তার জন্য সবরকম আয়োজন সারছে আয়োজকপক্ষ।

ভারত সফর ঘিরে কলকাতা মাতাতে প্রস্তুত ব্রাজিল ফুটবল দল। ভিনিসিয়াস-রাফিনহাদের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের এই সফরকে ঘিরে দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সাম্বা জাদুকরদের যত্ন-আত্তি ও আপ্যায়নে যেন সামান্যতম খামতি না থাকে, তার জন্য সবরকম আয়োজন সারছে আয়োজকপক্ষ।

ব্রাজিল দল বরাবরই তাঁদের ডায়েট আর ফিটনেস নিয়ে শতভাগ সচেতন। তাই সফর চলাকালীন কোনো ঝুঁকি না নিয়ে নিজেদের বড় শেফদের দল নিয়েই কলকাতায় পা রাখছেন তাঁরা। দিনভর বিশ্বজয়ী দলের খেলোয়াড়রা কী খাবেন, তা নিয়ে দিনে মোট পাঁচ বারের একটি সুসংগঠিত খাদ্যতালিকা ইতিমধ্যে জমা পড়েছে। ব্রাজিল থেকে আসা বিশেষ শেফদের তদারকিতেই প্রস্তুত হবে ফুটবল তারকাদের দিনের এই পাঁচ বারের আহার।

সকালে তাদের শারীরিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে রাখা হয়েছে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত পদ। তেল ছাড়া ডিমের বিভিন্ন রান্না, চিজ অমলেট, স্মোকড টার্কির মাংস এবং বিশেষ ভাবে তৈরি মুরগির পদ থাকবে সকালের মেনুতে। মন সতেজ রাখতে গাজরের কেক, ওয়াফেল, নানা ধরনের কফি, হারবাল চা এবং তাজা ফলের জুসের সুব্যবস্থা থাকছে।

দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে এনার্জির চাহিদা মেটাতে টাটকা স্যালাডের পাশাপাশি প্রধান পদে থাকছে বেকড পর্ক হ্যাম, গ্রিলড মুরগির বুকের মাংস ও কাঁটাবিহীন রেড স্ন্যাপার মাছ। ভাত, পাস্তা ও ব্রাজ়িলের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘ফারোফা’-র সাথে শেষ পাতে পরিবেশন করা হবে সেদেশের জনপ্রিয় মিষ্টি ‘ডুলস ডি লুশ’।

মাঠে কঠোর অনুশীলন চলাকালীন খেলোয়াড়দের চাঙ্গা রাখতে তৃতীয় বার অর্থাৎ ট্রেইনিং স্ন্যাক্স হিসেবে মিলবে হালকা স্যান্ডউইচ, কর্ন কেক এবং রকমারি ফল। ঘরের স্বাদ বজায় রাখতে এই সময়ে ব্রাজিলীয় প্লেয়ারদের দেওয়া হবে সেদেশের প্রিয় ক্যান্ডি ‘ব্যানানিহা’ ও মিষ্টি ‘প্যারোকুইনহা’।

চতুর্থ পর্বের নৈশভোজে থাকবে ঝলসানো পর্ক, রোস্টেড মুরগির উরু এবং তেরিয়াকি সসে তৈরি নরওয়ের স্যামন মাছ। দুপুরের মতো ভাত, সবজি ও পাস্তার অপশন রাতের টেবিলেও বহাল থাকবে, আর ডেজার্ট হিসেবে মিলবে অ্যাপেল ক্রাম্বল।

সবশেষে, রাতে যাদের দেরিতে ক্ষুধা পাবে তাদের জন্য রয়েছে পঞ্চম দফার ব্যবস্থা। গভীর রাতের এই খাবারে রাখা হয়েছে হালকা পাউরুটি, ওটস, ড্রাই ফ্রুটস, দই, অরেঞ্জ কেক এবং ওয়াফেল।

সব মিলিয়ে, কড়া ডায়েট আর নিখুঁত শৃঙ্খলার ঘেরাটোপে বাঁধা এই খাদ্যতালিকা কেবল পুষ্টির হিসাব নয়, যেন এক পেশাদার ফুটবলের মন্ত্রসংগীত। সবুজ গালিচায় যে পায়ের ছন্দে ফুটবলপ্রেমীরা মন্ত্রমুগ্ধ হন, সেই ছন্দের পেছনের এমন সুসংগঠিত প্রস্তুতি তো থাকবেই। আতিথেয়তার উষ্ণ শহর কলকাতা এখন অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছে। কবে সেই চেনা ল্যাটিন ছন্দ আর আবেগের জোয়ারে ভেসে যাবে তিলোত্তমার প্রাণ!

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link