আফগানিস্থান কে বলা হয় এশিয়ার নেক্সট বিগ থিং,যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে তারা। কিন্তু এশিয়ান গেমসের মঞ্চে সেই আফগানিস্তানকেই যেন পাত্তা দিল না নেপাল।
শুরুটা হয়েছিল প্রথম বল থেকেই। ললিত রাজবংশী বল হাতে নিয়ে যেন বার্তা দিলেন, আজকের দিনটা সহজ হবে না। ওভারের শেষ বলেই হাসান ইসাখিলের স্টাম্প উপড়ে গেল। এরপর আর দাঁড়াতেই পারেনি আফগানিস্তান। নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক উইকেট পড়েছে, কখনও ললিত তো কখনও কুশল ভুর্টেল, দুজনেই যেন আফগানদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দিলেন। চার ওভারে তেরো রানে তিন উইকেট নিলেন ললিত, চার ওভারে একুশ রানে চার উইকেট কুশলের। মাঝে ফয়সাল শিনোজাদা আর নাজিবুল্লাহ জাদরানের ছোট ছোট প্রতিরোধ ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারেনি আফগান ব্যাটাররা। শেষমেশ একশ দুই রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।
লক্ষ্যটা বড় ছিল না, কিন্তু ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়েও তো বিপদে পড়া যায়, ক্রিকেটে এমন উদাহরণ কম নেই। নেপালও শুরুতে একটু নড়বড়ে হয়েছিল। দ্বিতীয় বলেই কুশল ভুর্টেল ফিরে গেলেন দুই বলে শূন্য রানে, খানিক পরে আসিফ শেখও একই পথে। তবে এই ছোট্ট ধাক্কাগুলোকে বড় হতে দেয়নি নেপাল। স্বন্দীপ জোরা আর রোহিত পাউডেল হাল ধরলেন, রান বাড়তে থাকল ধীরে ধীরে অথচ স্বচ্ছন্দে।

আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের বোলিং বিভাগ, সেই বোলিং বিভাগের সামনেই যেন কোনো ভয়ডরই ছিল না নেপালের ব্যাটারদের। স্বন্দীপ জোরা করলেন ৩৪, শেষদিকে অপরাজিত থেকে গেলেন রোহিত পাউডেল, তেত্রিশ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে। দিপেন্দ্র সিং আইরি রান আউট হয়ে ফিরলেও ততক্ষণে কাজ প্রায় শেষ। ১৭.২ ওভারে পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নেপাল।
হেসেখেলেই যেন জয়টা তুলে নিল নেপাল, আর এই জয় দিয়েই এবারের এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট তুলে নিল তারা।












