ললিতের স্পিন তোপে এলোমেলো আফগানিস্তান!

প্রথম ওভার, প্রথম বল থেকেই যেন একটা বার্তা দিতে চাইলেন ললিত রাজবংশী। এশিয়ান গেমসের মঞ্চ, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, চাপটা কম ছিল না। কিন্তু চাপ যেন তাঁকে ছুঁতেই পারল না।

প্রথম ওভার, প্রথম বল থেকেই যেন একটা বার্তা দিতে চাইলেন ললিত রাজবংশী। এশিয়ান গেমসের মঞ্চ, প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান, চাপটা কম ছিল না। কিন্তু চাপ যেন তাঁকে ছুঁতেই পারল না।

ওভারের শেষ বলে হাসান ইসাখিলের স্টাম্প উপড়ে গেল। কোনো রান নেই ব্যাটে, শূন্য রানেই ফিরলেন। নেপালের ডাগআউটে তখন হাসি, গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস। শুরুটা যেমন হওয়া দরকার, ঠিক তেমনই হলো।

একটা উইকেট কি থামাতে পারে ললিতকে? মোটেও না। দ্বিতীয় ওভারে আবার বল হাতে তিনি, আর আবার সাফল্য। মোহাম্মদ আকরাম স্লগসুইপের লোভ সামলাতে পারলেন না, বল আকাশে তুলে দিলেন। মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা লোকেশ  কাজটা সারলেন অনায়াসে। দুই ওভারের মধ্যে দুই উইকেট, আফগানিস্তানের রানের খাতা তখনও দশের নিচে।

তৃতীয় শিকারটা যেন আরও নিষ্ঠুর। করিম জানাত ততক্ষণে থিতু হয়ে গেছেন, নয় বলে নয় রান তুলে ফেলেছেন, মনে হচ্ছিল বুঝি সামলে নিয়েছেন পরিস্থিতি। কিন্তু ললিতের সোজা ডেলিভারিটা তাঁকে বোকা বানাল। ডিফেন্স করতে গিয়েও স্টাম্প বাঁচাতে পারলেন না। তিন ওভারের মধ্যে তিন উইকেট। পাওয়ারপ্লে তখনও শেষ হয়নি, আফগানিস্তান ইতিমধ্যে ধুঁকছে।

কী অদ্ভুত এক শুরু। একটা দল যখন এভাবে প্রথম কয়েক ওভারেই এলোমেলো হয়ে যায়, বাকি ইনিংসটা শুধু ক্ষতি সামলানোর লড়াই হয়ে দাঁড়ায়। আফগানিস্তানের সঙ্গেও ঠিক তাই হলো। পরের ব্যাটাররা চেষ্টা করেছেন, কেউ কেউ কিছুটা রান টেনেছেন, কিন্তু ললিতের সেই শুরুর ধাক্কা থেকে দল আর সত্যিকার অর্থে বেরোতে পারেনি।

চার ওভার শেষে ফিগারে লেখা রইল তেরো রানে তিন উইকেট। আফগানিস্তান গুটিয়ে গেল মাত্র একশ দুই রানে।

বল হাতে প্রথম আঘাতটা যদি সঠিক জায়গায় পড়ে, বাকি গল্পটা অনেক সময় নিজে থেকেই লেখা হয়ে যায়। এশিয়ান গেমসের এই ম্যাচে ঠিক সেটাই দেখাল ললিত রাজবংশী। প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দিলেন না তিনি।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link