গিলের এখন ‘বিরাট’ হওয়ার পালা

এখন শুভমানের পালা টি-টোয়েন্টিতেও নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করার। তিনি কি পারবেন? নাকি রাজ্যের বোঝা মাথায় নিয়ে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাট থেকে নিজেকে আড়ল করে নেবেন?

রীতিমত একটা অথৈ সাগরে নিক্ষেপ করা হল শুভমান গিলকে। ব্যর্থতা মানেই অতলে তলিয়ে যাওয়া। কিন্তু শুভমানের অনুপ্রেরণা জুড়ে বিরাট কোহলি আছেন, সে কারণেই সম্ভবত লড়াই করবার মানসিকতাও আছে তার মধ্যে। দোলাচলার ভুবনের মাঝে দাঁড়িয়ে তাকে দেখাতে হবে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা।

এশিয়া কাপের স্কোয়াডে শুভমান গিলের অন্তর্ভুক্তি ভারতের ক্রিকেট মহলে দিয়েছে নতুন সমালোচনার বিষয়বস্তু। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলননি গিল। কিন্তু তবুও হুট করেই তিনি জায়গা পেয়েছেন এশিয়া কাপের দলে। শুধু তাই নয়, তাকে বানানো হয়েছে সহ অধিনায়ক। সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন শুভমান গিল ও নির্বাচকরা।

কেননা ভারতের টি-টোয়েন্টি সেটআপে ওপেনিং পজিশনটা প্রায় থিতু ছিল। অভিষেক শর্মার সাথে সাঞ্জু স্যামসনের যুগলবন্দী ইতোমধ্যেই দ্যুতি ছড়িয়েছে চারিপাশে। তবে যেহেতু শুভমান সহ অধিনায়ক, সেহেতু তার একাদশে জায়গা প্রায় পাকাপোক্ত। আর সে কারণে সাঞ্জুকে ছাড়তে হবে তার ওপেনিং দায়িত্ব। এখানেই বরং পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ অপেক্ষমান শুভমান গিলের জন্যে।

এশিয়া কাপে তাকে চোখ ধাঁধানো পারফরমেন্স করতেই হবে, বিকল্প নেই। দলকে শিরোপা জেতানোর কাণ্ডারি হওয়ার ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ খোলা নেই শুভমানের সামনে। তেমনটি তিনি না করতে পারলে হয়ত টি-টোয়েন্টিতে শুভমানের অধ্যায়ের ঘটতে পারে সমাপ্তি। তবে এমন কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে অবশ্য শুভমান অভ্যস্ত।

ভারতের যেকোন ব্যাটারের সামনে রয়েছে এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। বিরাট কোহলির অদম্য মানসিকতা তাকে বানিয়েছে সেরাদের সেরা। যখনই তাকে নিয়ে  দ্বিধার সঞ্চার ঘটেছে, বিরাট বাইশ গজে নিজের রাজত্ব নতুন করে জানান দিয়েছে। সেই অটুট মানসিকতার দীক্ষা শুভমানও কিছুটা রপ্ত করেছেন। অন্তত ইংল্যান্ড সিরিজে সে প্রমাণ তিনি রেখেছেন।

টেস্ট ক্রিকেটে পালাবদলের প্রেক্ষাপটে শুভমানের কাঁধে উঠেছিল অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। অধিকাংশ মানুষই শুভমানের সামর্থ্য নিয়ে ছিলেন সন্দিহান। ইংল্যান্ডের মাটিতে যেখানে তাবড় তাবড় ব্যাটাররা খাবি খায়, সেখানে শুভমান একজন ভাল ব্যাটার থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে।

৭৫৪ রান করেছিলেন তিনি পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে। শুধু তাই নয়, দূর্দান্ত এক সিরিজ ড্র উপহার দিয়েছেন তিনি অধিনায়ক হিসেবে। এখন শুভমানের পালা টি-টোয়েন্টিতেও নিজের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করার। তিনি কি পারবেন? নাকি রাজ্যের বোঝা মাথায় নিয়ে সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাট থেকে নিজেকে আড়ল করে নেবেন?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link