পাকিস্তানের টেস্টের ব্যাটন সালমানের হাতে?

ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর ব্যাট এবং বলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স পিসিবি কর্তাদের বাধ্য করেছে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে।

পাকিস্তানের সাদা পোশাকের ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা আর বাংলাদেশের কাছে ধবলধোলাই। সব মিলিয়ে পাকিস্তান আছে তীব্র অশান্তিতে। সেই গ্লানি কাটাতে এবার এক আমূল পরিবর্তনের বাতাস পাওয়া যাচ্ছে। শান মাসুদের অধ্যায় চুকিয়ে টেস্ট নেতৃত্বের ব্যাটন এখন উঠতে পারে নতুন সেনাপতির হাতে। খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা দলকে টেনে তুলতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এখন গুরুতরভাবে ভাবছে সালমান আলী আঘার নাম। 

শান মাসুদের অধীনে পাকিস্তান ক্রিকেট দল যেন এক অন্তহীন অন্ধকারের মাঝে তলিয়ে গিয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে ১৬টি টেস্টের মধ্যে ১২টি ম্যাচেই মিলেছে চরম পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ। যার ভেতর দুইবার আছে বাংলাদেশের সাথে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। এ স্পোর্টসকে একটি সূত্র জানায়, দলের ভেতরে তৈরি হওয়া চরম দূরত্ব আর মাঠের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিক পতনই পিসিবিকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে। 

এমন চরম সংকটের মুহূর্তে পাকিস্তান ক্রিকেটের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন অলরাউন্ডার সালমান আলী আঘা। যখনই দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হয়েছেন, তখনই তাঁর ব্যাট কথা বলেছে বীরের মতো। মাঠের ভেতরে তাঁর ইস্পাতকঠিন মানসিকতা আর লড়াকু মনোভাবই আজ তাঁকে নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় দাবিদার করে তুলেছে। 

সালমান আলী আঘার এই উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি তাঁর দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের এক পরম স্বীকৃতি। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর ব্যাট এবং বলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স পিসিবি কর্তাদের বাধ্য করেছে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে। সালমানই এখন পাকিস্তানের ক্রিকেটের নতুন কাণ্ডারি।

ইতোমধ্যেই বিশ ওভারের ক্রিকেটে পাকিস্তানের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এই প্রতিভাবান অলরাউন্ডার। এমনকি আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ওয়ানডে দলেও তাঁকে করা হয়েছে শাহীন শাহ আফ্রিদির সহযোগী। পাকিস্তানের জার্সিতে নিয়মিত সাফল্যই তাঁর জন্য টেস্ট ক্রিকেটের মুকুট মাথায় দেওয়ার পথকে পুরোপুরি মসৃণ এবং নিশ্চিত করে তুলেছে। 

আগামী জুলাই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান আবার সাদা পোশাকের ক্রিকেটে মাঠে নামবে। আর সেই সফরের আগেই হয়তো সালমানের হাতে উঠতে যাচ্ছে টেস্ট দলের দায়িত্ব। পাকিস্তানের ক্রিকেট ভক্তদের আশা, নতুন অধিনায়কের মাধ্যমেই ফিরে আসবে হারিয়ে যাওয়া গৌরব। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link