ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়নে ক্রিকেটারদের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির দিকে নজর দেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল) শুরুর প্রাক্কালে ঠিক এমন একটি আশাজাগানিয়া বার্তা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)-এর অ্যাড-হক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল।
একটি পেশাদার ক্রিকেট কাঠামোর জন্য ভাবনাটি নিঃসন্দেহে চমৎকার ও দূরদর্শী ছিল। তবে টুর্নামেন্ট যখন সপ্তম রাউন্ডে পা রাখল, তখন আশার সেই বাণী কেবল নথিপত্রেই বন্দি রয়ে গেছে। মাঠের রুূঢ় বাস্তবতা বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।
এতগুলো ম্যাচ পেরিয়ে গেলেও ক্রিকেটারদের মধ্যাহ্নভোজের চিরাচরিত মেনুতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সুষম খাদ্যের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার লেশমাত্র নেই কোথাও। প্রতিদিনের মেনুতে সেই চেনা আবর্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে ভাত, ডাল আর মাংস।

এ বিষয়ে বিসিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে ‘ডেইলি সান’। তিনি গভীর আক্ষেপ ও হতাশার সুরে স্বীকার করেন যে, পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়ে গেছে।
তার মতে, ‘বিষয়টি নিয়ে আর না বলাই ভালো। যেভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি সামলানোর কথা ছিল, তা মোটেও হচ্ছে না।’ তবে এই ব্যর্থতার দায় তিনি ক্লাবগুলোর ওপর চাপাতে নারাজ। তার স্পষ্ট বক্তব্য, সমস্যাটি আসলে ক্লাবগুলোর নয়, বরং খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের।
তাঁর তথ্যমতে, সরবরাহকারীদের অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক সময় দুপুরের খাবার সকালে চলে আসে। যার ফলে নষ্ট হয়ে খাবার থেকে গন্ধ ছড়ায়। পাশাপাশি প্রতিদিনের মেনুতে একঘেয়েভাবে মুরগির মাংস দেওয়া নিয়ে প্রতিদিন বিসিবিতে অভিযোগ জমা পড়ছে।

তবে কেবল সরবরাহকারী নয়, পুষ্টিসম্মত আধুনিক ডায়েট বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে খেলোয়াড়দের খাদ্যাভ্যাসও একটি বড় বাধা। ক্রিকেটাররা দুপুরে রুটি বা হালকা গ্রিলড খাবারের চেয়ে ভাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ফলে জোর করে মেনু পরিবর্তন করলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
আপাতত সবজি, মিষ্টি, মাছ ও মাংসের একটি সাধারণ স্ট্যান্ডার্ড মেনু বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুষ্টির সেই কাঙ্ক্ষিত আধুনিক রূপান্তরটি এই মৌসুমের জন্য স্থগিতই রাখতে হচ্ছে বোর্ডকে।











