টেস্টে লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং এর ত্রাতা হয়ে উঠছেন মিরাজ!

শুরুতে যাকে ভাবা হতো নিছক এক স্পিনার, গত তিন-চার বছরে সেই মেহেদী হাসান মিরাজই হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে ভরসার নাম। দলের টপ অর্ডার যখন একের পর এক ধসে পড়ে, তখন সাত কিংবা আট নম্বরে নেমে হাল ধরার কাজটা যেন তার একারই দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুরুতে যাকে ভাবা হতো নিছক এক স্পিনার, গত তিন-চার বছরে সেই মেহেদী হাসান মিরাজই হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে ভরসার নাম। দলের টপ অর্ডার যখন একের পর এক ধসে পড়ে, তখন ছয় কিংবা সাত নম্বরে নেমে হাল ধরার কাজটা যেন তার একারই দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংখ্যাগুলো নিজের মতো করেই বলে দেয় গল্পটা। ২০২৩ সালের পর থেকে টেস্টে তার ব্যাটিং গড় প্রায় ৪২, যেকোনো জেনুইন ব্যাটারের পরিসংখ্যানের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতোই একটা সংখ্যা। ২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে যখন দল রীতিমতো খাদের কিনারায়, তখন লিটন দাসের সঙ্গে জুটি বেঁধে যে ইনিংস খেলেছিলেন, সেটাই এনে দিয়েছিল বাংলাদেশের এক ঐতিহাসিক সিরিজ জয়, যা এখনও আলোচনায় আসে ঘুরেফিরে। মাত্র ৫৩ ম্যাচেই ২০০০ রান আর ২০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেছেন তিনি, বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসেই যা বিরল এক কীর্তি।

সাকিব আল হাসানের পরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় কোনো অলরাউন্ডার হিসেবে যার তুলনা মেলা ভার। ব্যাট হাতে দুটি সেঞ্চুরি, দশটি হাফ সেঞ্চুরি, সর্বোচ্চ ইনিংস ১০৪, সব মিলিয়ে একটা কথাই বারবার প্রমাণ হয়, দল বিপদে পড়লে মিরাজের ব্যাট কথা বলে।

সবশেষ তার ব্যস্ততা ছিল অবশ্য অন্য এক মঞ্চে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে অভিষেকেই তিন উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন, এরপর পরের ম্যাচেই চার উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। মোহাম্মদ নবীর বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়েও যেভাবে নিজেকে প্রমাণ করলেন, তাতে টি-টোয়েন্টিতে তার সামর্থ্য নিয়ে থাকা পুরনো সংশয়ও অনেকটাই কেটে যায়।

তবে সেই অধ্যায় এখন পেছনে। সামনে অপেক্ষা করছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচের টেস্ট, আগামী ৯ অক্টোবর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলে জায়গা পাকা মিরাজেরও, তাইজুল ইসলামের সঙ্গে স্পিন আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ড্র করে আসা দলের জন্য এই টেস্টও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, আর সেখানে ব্যাট হাতেও নিজের জায়গা ধরে রাখতে নেটে সমান মনোযোগী মিরাজ। সংকটে যার ব্যাট আগেও কথা বলেছে বারবার, আফগানিস্তান টেস্টের আগেও তাই প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছেন না তিনি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link