ক্লান্তি তাঁকে দূরবীন হয়ে দাঁড়িয়ে দেখে

কোহলি যখন ছুটছেন, ক্লান্তি তখন দূরবীন হাতে দাঁড়িয়ে দেখছে—আসলে সে কি ভুল করে একজন মানুষকে দেখছে, নাকি সে এক ক্রিকেটীয় যন্ত্র, যে শুধু ছুটতে জানে, খেলতে জানে, জিততে জানে!

বিরাট কোহলি যখন ব্যাট হাতে নামেন, তখন তিনি একা নামেন না। মাঠে নামে আরও কিছু জিনিস—ধৈর্য, পরিশ্রম, আর অবিশ্বাস্য ফিটনেস, অসামান্য অধ্যাবসায়। ক্রিকেট আজকাল অনেক বদলে গেছে, কেউ সেঞ্চুরি করলে একসময় না একসময় ক্র্যাম্পে কুঁকড়ে যান, মাঠে শুয়ে পড়েন, ফিজিও ছুটে আসেন, সারা গ্যালারি উদ্বেগে তাকিয়ে থাকে।

কিন্তু, কোহলিকে এসব ছুঁয়ে যায় না। তিনি যেন অন্য গ্রহের কেউ। সারাদিন দৌড়ালেন, সিঙ্গেল-ডাবলে ফিল্ডারদের দৌড় করালেন, পুরো ইনিংস জুড়ে দম ফেললেন বুঝি কেবল ওভার গ্যাপের সময়!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁর ৮৪ রানের ইনিংসটা ছিল যেন এক কর্মশক্তির মহাকাব্য। ৬৪টি রানই এল দৌড়ে, মাত্র ২০ রান বাউন্ডারি থেকে। প্রথম ২৫ বলে ২৩টা সিঙ্গেল-ডাবল! কোনো শট মারা নয়, শুধু দৌড়ে রান—এটাই তাঁর ক্রিকেট বুদ্ধিমত্তা। সিচুয়েশন পড়তে তিনি জানেন, ইনিংস গড়তে জানেন, জানেন কীভাবে খেলাটাকে নিজের মতো করে গড়ে নিতে হয়। আজও সেটাই করলেন, শিখিয়ে দিলেন ওয়ানডে ক্রিকেট আসলে কীভাবে খেলতে হয়।

কিন্তু যে বিষয়টা আলাদাভাবে চোখে পড়ে, সেটা হলো—তিনি কখনো ক্লান্ত হন না, কখনো ক্র্যাম্পে কুঁকড়ে যান না। কীভাবে পারেন? কিভাবে এতটা দৌড়ে, এতটা লম্বা ইনিংস খেলে, এত বছর পরও তিনি একইরকম চাঙ্গা থাকেন? কারণ তিনি বিরাট কোহলি।

প্রতিটা রান তাঁর কাছে একটা ফিটনেস পরীক্ষা, প্রতিটা ইনিংস তাঁর কাছে একটাই মিশন—জয়। তাই অন্যদের যখন ক্র্যাম্প হয়, ফিজিও ডেকে নেয়, তখন কোহলি হাসেন। কারণ তাঁর কাছে রান করাটা শুধু শট খেলা নয়, সেটা দৌড়ে ছিনিয়ে আনা। তাঁর খাদ্যাভ্যাসটাও বাকি ক্রিকেটারদের জন্য অনুসরণীয়। তেল-মশলার ধারের কাছ দিয়েও যান না তিনি।

কোহলি যখন ছুটছেন, ক্লান্তি তখন দূরবীন হাতে দাঁড়িয়ে দেখছে—আসলে সে কি ভুল করে একজন মানুষকে দেখছে, নাকি সে এক ক্রিকেটীয় যন্ত্র, যে শুধু ছুটতে জানে, খেলতে জানে, জিততে জানে!

Share via
Copy link