চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর আন্তর্জাতিক বিদায়ে রোনালদোর সম্মান প্রদর্শন!

একজন বিদায় নিলেন সব সম্মান আর সব শিরোপা নিয়ে, ভরা স্টেডিয়ামের করতালির মধ্যে। আরেকজন লড়ছেন এখনো, তবে বিদায়ের সুরটা কেমন হবে, সেটা এখনো অনিশ্চিত।

মঙ্গলবার রাতে বুয়েনস আইয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আকাশি-নীল জার্সিতে শেষবার মাঠ ছাড়লেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে নিজে একটি গোল করলেন, করালেন আরও দুটি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮তম ম্যাচ শেষে তাঁর নামের পাশে থাকল ১২৬ গোল আর ৭০টি অ্যাসিস্ট। বিদায়ের এমন রাতে অনেক বার্তাই এসেছে, তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে একটি মন্তব্য নিয়ে, যেটি এসেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কাছ থেকে।

একটা সময় ফুটবল দুনিয়া অপেক্ষায় থাকত রিয়াল আর বার্সার এল ক্লাসিকোর জন্য, যেখানে মুখোমুখি হতেন এই দুজন। দুই ক্লাবের হয়ে দুজনই আকাশছোঁয়া সব ট্রফি জিতেছেন, আর একসঙ্গে যে পরিমাণ সাফল্য তাঁরা ফুটবল ইতিহাসে রেখে গেছেন, তা আর কারও নেই। রোনালদো নাকি মেসি, সর্বকালের সেরা কে, এই বিতর্ক চলেছে বছরের পর বছর। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে মেসি অনেকের চোখে এগিয়েই গিয়েছিলেন, তবু দুজনেই যে নিজ নিজ জায়গায় সেরা, ফুটবল দুনিয়াকে সেটা মানতেই হবে। বয়সের ব্যবধানে পরে দুজনের ক্লাবও আলাদা হয়েছে, মুখোমুখি দেখা হতো কালেভদ্রে। মাঠের লড়াই থেমে গেলেও মাঠের বাইরের সম্মানটা কখনো কমেনি।

মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলার ঘোষণা দিয়েছিলেন আগস্টে, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর। বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের পরদিন ইনস্টাগ্রামে লম্বা এক বার্তা দিয়ে তিনি লিখলেন, “গতকাল ছিল আমার শেষ ম্যাচ। আর এরই মধ্যে আকাশি-সাদা জার্সিটাকে মিস করছি।” পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ আর কোচদের ধন্যবাদ জানালেন তিনি, স্মরণ করলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনাকেও। ৩৯ বছর বয়সী মেসি জাতীয় দল ছাড়লেও ফুটবল ছাড়ছেন না, ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন।

মেসির সেই পোস্টের নিচেই মন্তব্য করলেন রোনালদো। লিখলেন, “লিও, এত বছর ধরে নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছ এবং এমন একটি গল্প রেখে যাচ্ছ, যা চিরকাল বেঁচে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে তুমি যা অর্জন করেছ, তার জন্য তোমার প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান। একটি আলিঙ্গন।” দুই দশকের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর এই কয়েকটি লাইনের ওজন কম নয়। যিনি এত বছর ধরে মেসির সঙ্গে তুলনার মুখে পড়েছেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত বললেন, এই গল্প কখনো ফুরোবে না।

তবে রোনালদোর নিজের গল্পটা এখন মোটেও সুখের নয়। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা পর্তুগালের নতুন কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে জড়িয়েছেন তিক্ত বিরোধে। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে তিনি ছিলেন পুরো টাইম বেঞ্চে, এর আগে ওয়েলসের বিপক্ষে ৬৭ মিনিটে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। ডেনমার্ক ম্যাচের আগের দিন তিনি হঠাৎ দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান। পরে লম্বা এক বিবৃতিতে কোচকে দোষ দিয়েছেন, বলেছেন কোচ কথা রাখেননি। আবার একই সঙ্গে সতীর্থদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন, মেনে নিতে চেয়েছেন শাস্তি। অবসর নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, রোনালদো জানিয়েছেন তিনি এখনই জাতীয় দল ছাড়ছেন না। তাঁর ভাষায়, ” আমি আমার সব ভক্তকে, আর স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ করে সব পর্তুগিজকে কথা দিতে পারি, আমাদের এক বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ হবে। এর জন্য সময় আছে।”

একজন বিদায় নিলেন সব সম্মান আর সব শিরোপা নিয়ে, ভরা স্টেডিয়ামের করতালির মধ্যে। আরেকজন লড়ছেন এখনো, তবে বিদায়ের সুরটা কেমন হবে, সেটা এখনো অনিশ্চিত।

Share via
Copy link