৯ অক্টোবর, শুক্রবার থেকে আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্ট। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১১টায় টস হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্টের হিসাব নেই বলে অনেকেই ম্যাচটাকে হালকা চোখে দেখছেন। কিন্তু এই ম্যাচের মূল্য অন্য জায়গায়। চ্যাম্পিয়নশিপের কঠিন সিরিজগুলো শুরুর আগে নিজেদের যাচাই করার, ভাঙা ফর্ম জোড়া লাগানোর আর নতুন কিছু ভেবে দেখার শেষ সুযোগ এটাই। শান্তর দল যদি একটু সাহস করে বদলায়, এই ম্যাচ থেকেই সামনের সিরিজের একাদশের ছবিটা পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।
শুরু করা যাক ওপেনিং দিয়ে। তানজিদ হাসানের সঙ্গে সাদমানের জায়গায় সৌম্য সরকারকে খেলানোর যুক্তি জোরালো। সৌম্য বাঁহাতি, নতুন বলে তাঁর হাত খোলে, আর আবুধাবির দ্রুত আউটফিল্ডে বল একবার ব্যাটে এলে সীমানায় যেতে সময় লাগে না। মাঠের বাউন্ডারি বড়, কিন্তু আউটফিল্ড এতটাই দ্রুত যে শট খেলার সুযোগ থাকে প্রচুর।যদিও সাদমান কে খেলানো হয় বাহাতি আর ডান হাতি কম্বিনেশন এ বোলার দের চ্যালেঞ্জে ফেলার জন্যে কিন্তু এটা ক্রিকেটের পুরনো নিয়ম আর এতে বোলাররা এখন অভ্যস্ত বলা যায়। ঝুঁকি আছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের ম্যাচে ঝুঁকি না নিলে আর কবে নেবেন?
তিনে বরাবরের মতোই নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের ব্যাটে রান আসা মানে পুরো দলের মেরুদণ্ড সোজা থাকা। এরপর মিডল অর্ডারে মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহিম, পাঁচ নম্বরে লিটন দাসের আগে। অভিজ্ঞতার এই তিনজনের দিকেই এবার সবচেয়ে বেশি চোখ থাকবে, কারণ মুশফিক আর লিটন দুজনেই রান-খরায় ভুগছেন আর আবুধাবির এই ম্যাচ তাঁদের জন্য সেই সুযোগ। তাওহীদ হৃদয়ের নাম অবশ্য আলোচনায় থাকছেই। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো করা এই তরুণ তখনই একাদশে ঢুকবেন, যদি মুমিনুল বা মুশফিকের একজন কোনো কারণে মাঠের বাইরে থাকেন। তা না হলে তাঁকে অপেক্ষাতেই থাকতে হচ্ছে।

ছয়ে নামবেন লিটন দাস, আর এই সিরিজ তাঁর জন্য সবচেয়ে জরুরি। ইনজুরি থেকে ফেরার পর থেকে তিনি ফর্মে নেই। শেষ টেস্টেও ব্যাটে রান আসেনি, আর এশিয়ান গেমসেও তাঁর ব্যাট কথা বলেনি। একজন ব্যাটার যখন পরপর কয়েকটা সিরিজে নিজের ছন্দ খুঁজে পান না, তখন আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই একমাত্র টেস্টে বড় একটা ইনিংস খেললে সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে আসতে পারে, যেটা চ্যাম্পিয়নশিপের কঠিন সিরিজগুলোর আগে বাংলাদেশের খুব দরকার।
সাতে মেহেদী হাসান মিরাজ, ব্যাট হাতে টেস্টে যিনি বহুবার দলকে বিপদ থেকে টেনে তুলেছেন। তাঁর ব্যাটিং আছে বলেই বাংলাদেশ একজন বাড়তি বোলার নিয়ে নামার সাহস পায়।
পিচ নিয়ে পূর্বাভাস মিশ্র। আবুধাবির উইকেটকে অনেকে ভারসাম্যপূর্ণ বলছেন, রান হয় মাঝারি, পেসাররা পান বাউন্স আর স্পিনাররা পান গড়পড়তা টার্ন। চার-পাঁচ দিনে উইকেট ভাঙতে শুরু করলে স্পিনারদের হাতই তখন সব দায়িত্ব গিয়ে পরে। সেখানে ডানহাতি অফস্পিনার মিরাজ আর বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের জুটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে ভরসার জায়গা। আফগান ব্যাটারদের স্পিনের বিরুদ্ধে দুর্বলতা খুঁজতে গেলে এই দুজনই হবেন প্রধান অস্ত্র।

পেস আক্রমণে হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম আর এবাদত হোসেনকে নিয়ে তিন পেসারের পরিকল্পনা। হাসানের গতি আর বাউন্স নতুন বলে আফগান ওপেনারদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, শরিফুল বাঁহাতি বলে অ্যাঙ্গেল তৈরি করেন, আর এবাদত বল করেন লম্বা স্পেলে, যেটা গরমে খুব কাজে লাগবে। পাঁচ দিনের টেস্টে এই গরমে স্পিনারদের পাশাপাশি পেসারদেরও লম্বা সময় মাঠে থাকতে হবে, তাই বোলিং গভীরতা এখানে বাড়তি সুবিধা।
আফগানিস্তান আসছে রশিদ খানকে ছাড়া, গত দুই বছরে মাত্র তিনটি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে, আর শেষ ম্যাচে ভারতের কাছে বড় হারের ক্ষত নিয়ে। অধিনায়ক রহমত শাহ তরুণ দের নিয়ে নিয়ে দল সাজিয়েছেন। রশিদ নেই বলে তাদের স্পিন আক্রমণ আগের মতো ভয়ংকর না-ও থাকতে পারে, তবু জিয়াউর রহমান আর কায়েস আহমেদের মতো বোলাররা আছেন।
দুই দলের টেস্ট ইতিহাস ছোট, কিন্তু তাতে দুটো গল্প আছে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে আফগানরা বাংলাদেশকে চমকে দিয়েছিল, আর ২০২৩ সালে মিরপুরে বাংলাদেশ জিতেছিল ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে। আবুধাবিতে কোন গল্পটা ফিরে আসবে, তা ঠিক হবে কে আগে নিজের ছন্দে ফিরতে পারে তার ওপর।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: তানজিদ হাসান, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটকিপার), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন।










