দলের নাম বদলায়, প্রতিপক্ষ বদলায়, কিন্তু সংকট এলেই একটা নাম বারবার ফিরে আসে—জো রুট। ইংলিশ ক্রিকেটে যখনই অনিশ্চয়তার মেঘ জমে, তখনই ব্যাট হাতে দিশারি হয়ে দাঁড়ান এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়েও তার ব্যতিক্রম হলো না।
লক্ষ্য ছিল ২৩৪ রানের। কিন্তু মাত্র ৫৩ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত ইংল্যান্ডের হাল ধরেন রুট। ভারতীয় বোলারদের সব আক্রমণ সামলে, ধৈর্য আর স্থিরতার প্রদর্শনী দেখিয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান তিনি। উইল জ্যাকসের ৩০ আর স্যাম কারানের ২৬ রান কিছুটা সঙ্গ দিলেও, পুরো ইনিংসের ভার ছিল রুটের কাঁধেই। গাস অ্যাটকিনসনের ব্যাটে যখন জয়সূচক রান আসে, রুট তখন অপরাজিত ৯৯ রানে—নিজের শতক উপেক্ষা করে দলের জয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন এই তারকা। ৩৫ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা।

অথচ এই ধারাবাহিকতা নতুন কিছু নয়। সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এজবাস্টনে একই চিত্র দেখা গিয়েছিল। মাত্র ১০৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিধ্বস্ত ইংল্যান্ডকে সেদিনও টেনে তুলেছিলেন রুট। লিয়াম ডসনের সঙ্গে গড়েন ১২১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। অপরাজিত ৭৬ রানের ইনিংসে দলকে পৌঁছে দেন ২৫৮ রানের সংগ্রহে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে জয় পায়নি ইংল্যান্ড, তবু রুটের ব্যাটে ধৈর্য আর নেতৃত্বের ছাপ স্পষ্ট ছিল।
দুই ম্যাচ মিলিয়ে বিপদের মুহূর্তে বারবার একই ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে—দল যখন টালমাটাল, তখনই স্থিতধী রুট ইনিংস মেরামত করে দলকে টেনে তুলেছেন। সিরিজে এখন এই টানা পঞ্চম পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস তার। ভারতের বিপক্ষে কোহলি ও আইয়ারের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরির পরও জফরা আর্চারের গতির সামনে ২৩৩ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
আগামী রোববার লর্ডসে অঘোষিত ফাইনালে গড়াবে সিরিজের ভাগ্য। সেখানেও কি একই রকম সংকটে দলের ত্রাতা হয়ে উঠবেন রুট, নাকি এবার ভারত ছিনিয়ে নেবে সিরিজ?












