সন হিউং-মিনকে ছাড়া বিশ্বকাপের মঞ্চে নামা? দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই চিন্তাটাই যে দুঃস্বপ্নের মতো। যে মানুষটা বছরের পর বছর ধরে লাল জার্সির স্বপ্ন, আশা আর আস্থার প্রতীক, সেই মানুষটিকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুতে বেঞ্চে বসিয়ে দিলেন কোচ হং মিয়ুং-বো। তাতেই হিতে বিপরীত হলো। পরের রাউন্ডে যাওয়া ঝুলে থাকল ভাগ্যের উপর।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রয়োজন ছিল না কোনো অলৌকিক কিছুর। দরকার ছিল শুধু হার এড়ানো। একটি ড্র-ই যথেষ্ট ছিল রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করতে। অথচ সেই সহজ সমীকরণকেই নিজের হাতে কঠিন করে তুলল এশিয়ার দলটি।
ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছিল। বড় পর্দায় সনের মুখ ভেসে উঠতেই গর্জে উঠেছিলেন সমর্থকেরা। কিন্তু একাদশ ঘোষণার সময় যখন দেখা গেল অধিনায়কের নাম নেই, তখন সেই গর্জন বদলে গেল বিস্ময়ে, বিস্ময় বদলে গেল ক্ষোভে। কোচ হংয়ের নাম উচ্চারিত হতেই স্টেডিয়ামজুড়ে শোনা গেল দুয়োধ্বনি।

তবু ম্যাচের শুরুতে মনে হচ্ছিল কোচের সিদ্ধান্ত হয়তো ভুল নয়। দ্বিতীয় মিনিটেই কিম মিন-জায়ের হেড থেকে প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। বলের দখল ছিল কোরিয়ানদের পায়েই।
কিন্তু ফুটবল তো, কখন কী হয়ে যায় তার ঠিক নেই! ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছাপ রাখতে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর এল সেই মুহূর্ত, যার জন্য অপেক্ষা করছিল পুরো স্টেডিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামলেন সন। গ্যালারি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল। মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো বদলে যাবে ম্যাচের গল্প। হয়তো অধিনায়কের এক ছোঁয়াতেই খুলে যাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণদুর্গ। সেটা আর হলো না। ৬৩ মিনিটে ডেডলক ভাঙে আফ্রিকা। আর পুরো গ্যালারিতে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।

গোল হজম করার পর একের পর এক আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে দক্ষিণ কোরিয়া। বদলি নামানো হয়, কৌশল পাল্টানো হয়, উইংব্যাকদেরও তুলে দেওয়া হয় আক্রমণে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ ছিল পাহাড়ের মতো অটল। ফলে পরাজয় নিয়েই ছাড়তে হয় মাঠ।
হং মিয়ুং-বো যে বাজি ধরেছিলেন, সেটি শুধু হারেনি। সেটি ভয়াবহভাবে উল্টো ফল দিয়েছে। যে ম্যাচে একটি ড্র-ই যথেষ্ট ছিল, সেই ম্যাচ হারার পর এখন দক্ষিণ কোরিয়াকে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের ফলাফলের দিকে।










