কলম্বোর রেসকোর্স ময়দানে হয়েছে শ্রীলঙ্কার নবজাগরণের সূত্রপাত। ফিফা র্যাংকিংয়ের ১৬৬ তম স্থানে থাকা চাইনিজ তাইপেকে তারা হারিয়েছিল ৩-১ গোল ব্যবধানে। শ্রীলঙ্কার ফিফা র্যাংকিং তখন ছিল ২০০। কি করে এমন দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিল তারা? উত্তর হচ্ছে বংশদ্ভূত খেলোয়াড়।
হামজা চৌধুরি, সামিত সোমরা বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। তাতে করে দক্ষিণ এশিয়ায় স্রেফ বাংলাদেশই হয়েছে শক্তিশালী, এ ধারণা ভুল। শ্রীলঙ্কাও সমানতালে ঝুকেছে বংশদ্ভূত খেলোয়াড়দের দিকে। বাংলাদেশ সফলতার দেখা না পেলেও শ্রীলঙ্কা কিন্তু ঠিকই পেয়েছে।
হামজা-সামিতদের নিয়ে গড়া দল। তবুও বহু প্রত্যাশার ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। কিন্তু বংশদ্ভূত খেলোয়াড়দের কারণে উন্মাদনা ছিল আকাশ ছোঁয়া।

সেই একই উন্মদনার প্রবল বাতাসে শ্রীলঙ্কান পতাকা উড়ছে দারুণ ছন্দে। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স কাপের বাছাইপর্বে লঙ্কানদের অবস্থান তিন নম্বরে। চাইনিজ তাইপের সাথে জয় শ্রীলঙ্কাকে রেখেছে থাইল্যান্ডের সমকক্ষ হয়ে।
সেই ম্যাচে বদলি সহ মোট নয়জন প্রবাসী ফুটবলারকে খেলিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। আর এই বংশদ্ভূত ফুটবলাররাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছিলেন অনেকটাই। তবে এই সাফল্যকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রয়োজন ঘরোয়া ফুটবলের পোক্ত আয়োজন।
সেকারণেই প্রবাসী ফুটবলারদের দেশের হয়ে খেলার জন্য উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলেও তারা বাড়িয়েছে মনোযোগ। প্রথমবারের মত চালু হয়েছে জুনিয়র ফুটবল টুর্নামেন্ট। এছাড়াও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বাড়তি মনোযোগ দিয়েছে ফুটবল ফেডারেশন অব শ্রীলঙ্কা।

তবে সেজন্যে প্রবাসী ফুটবলারদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে ক্যাশ ইন করতে চায় শ্রীলঙ্কা। পৃষ্ঠপোষকদের আকৃষ্ট করতে চায়। সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটা বিশাল অংশ তৃণমূল ফুটবলে ব্যয় করার প্রত্যয় রয়েছে লঙ্কান ফুটবল ফেডারেশনের।
অথচ, বাংলাদেশে প্রবাসী ফুটবলারদের অবাধ অংশগ্রহণে নেতিবাচক সমালোচনার অভাব অন্তত হচ্ছে না। তাইতো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন রয়েছে দোলাচলে। যদিও একঝাক বংশদ্ভূত খেলোয়াড় ট্রায়াল দিতে বাংলাদেশে পা রাখবেন। কিন্তু সেটাই তো আসল সমাধান নয়।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের বেহাল দশার দৃশ্য তো সবারই জানা। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট হয়, তবে সেসব নামকাওয়াস্তে। বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দলে প্রবেশের সুস্পষ্ট চ্যানেল নেই।

এই মুহূর্তে তাই প্রবাসী ফুটবলারদের ফেস ভেল্যু ব্যবহার করে উপার্জনের ধারাবাহিক পথ খুলতে হবে। আর সেই পথ থেকে প্রাপ্ত অর্থের বড় অংশ ঢালতে হবে তৃণমূল ফুটবলে। নতুবা শ্রীলঙ্কার চাইতেও পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশ।











