বাংলাদেশের অদ্বিতীয় নেতা শান্ত!

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ৪ জয় কিংবা মমিনুল হকের ৩ জয়ের রেকর্ডও এখন শান্তর দুর্দান্ত রেকর্ডের কাছে ম্লান।

লাল-সবুজের টেস্ট ক্রিকেটে যখনই নেতৃত্বের ব্যাটন বদল হয়েছে, তখনই এক বুক আশা নিয়ে তাকিয়েছে দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। চিরচেনা সেই হাহাকার আর পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙে এবার এক নতুন ভোরের গল্প লিখছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশকে তিনি এনে দিয়েছেন এক অবিশ্বাস্য জয়ের ক্ষিপ্রতা।

একটা সময় ছিল, যখন সাদা পোশাকে বাংলাদেশ মাঠে নামা মানেই ছিল পরাজয়ের প্রহর গোনা। প্রতিপক্ষের মাঠে তো বটেই, ঘরের চেনা উইকেটেও জয়ের দেখা পাওয়া ছিল আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো। পরপর দুই সিরিজে পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করার পর যেন এই ফলাফলকে অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য বলে মনে হতে পারে। 

হতাশার চোরাবালি থেকে বাংলাদেশ দলকে টেনে বের করে এনেছেন এক নতুন সেনাপতি। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে দলে এসেছে এক আমূল পরিবর্তন। পরাজয়ের সেই পুরোনো মানসিকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শান্ত ক্রিকেটারদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছেন জয়ের তীব্র ক্ষুধা। বাংলাদেশ এখন আর শুধু হার এড়ানোর জন্য খেলে না, খেলে বুক চিতিয়ে জয়ের জন্য।

পরিসংখ্যানের খাতা খুললেই দেখা যায় এক অবিশ্বাস্য রূপান্তর। সাবেক সফল অধিনায়কদের সবাইকে পেছনে ফেলে জয়ের সংখ্যায় শান্ত এখন সবার শীর্ষে। মাত্র ১৮টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে তিনি এনে দিয়েছেন ৮টি জয়। যেখানে জয়-পরাজয়ের হার দাঁড়িয়েছে এক চোখ ধাঁধানো ০.৮৯-এ।

এই যাত্রায় শান্ত পেছনে ফেলেছেন দেশের ক্রিকেটের বহু চেনা ও অভিজ্ঞ সব নামকে। ৩৪ ম্যাচে ৭টি জয় নিয়ে দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা মুশফিকুর রহিমকে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন প্রায় অর্ধেক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েই। এমনকি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ৪ জয় কিংবা মমিনুল হকের ৩ জয়ের রেকর্ডও এখন শান্তর দুর্দান্ত রেকর্ডের কাছে ম্লান।

শান্ত শুধু ম্যাচ জিতছেন না, তিনি বদলে দিচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মানসিকতাকে। সিনিয়রদের বিদায় আর তরুণদের আগমনী বার্তার এই সন্ধিক্ষণে তাঁর বুদ্ধিদৃপ্ত আক্রমণাত্মক নেতৃত্ব দলকে দেখাচ্ছে এক নতুন স্বপ্ন। সাদা পোশাকের আভিজাত্যে বাংলাদেশ এখন বিশ্বমঞ্চে এক সমীহ জাগানিয়া শক্তির নাম।

ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে বাংলাদেশ যে এক নতুন পরাশক্তি হয়ে ওঠার সামর্থ্য রাখে, শান্তর এই সাফল্য তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ। এই গল্প কেবল কিছু সংখ্যার নয়, এটি একটি জাতির সাদা পোশাকে নিজেদের নাম খোদাই করে রাখার। অধিনায়ক শান্তর হাত ধরে লাল-সবুজের এই বিজয়রথ ছুটে চলুক এক অনন্ত ও গৌরবময় আগামীর পথে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link