কাপ্তান শুধু মাঠ সাজায় না, প্রয়োজন হলে যুদ্ধটাও নিজেই লড়ে। পাঞ্জাব কিংসের জন্য শ্রেয়াস আইয়ার সেই যুদ্ধটাই লড়লেন। জিততে হবে সমীকরণে দাঁড়িয়ে শতক হাঁকিয়ে দলকে জেতালেন। সেই সাথে আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন, টি-টোয়েন্টিতে ভারতের অধিনায়কত্ব নিতে একেবারেই প্রস্তুত তিনি।
প্রথম সাত ম্যাচের একটিতেও পরাজয় ছুঁয়ে যেতে পারেনি পাঞ্জাবকে। তবে এরপর যেন কী হয়ে গেল। টানা ছয় হারে একেবারে বিধ্বস্ত পাঞ্জাব, ফিকে হয়ে এলো প্লে-অফের সম্ভাবনাও। শেষ ম্যাচে এসে ঠেকল ভাগ্য, আর সেটা লিখলেন শ্রেয়াস আইয়ার নিজে। যেন বলে গেলেন, ‘অনেক হয়েছে, এবার আমিই জেতাব দলকে।’
লখনৌ সুপার জায়ান্টস লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছিল ১৯৭। সেটা তাড়া করতে গিয়ে ২২ রানেই দুই ব্যাটারকে হারিয়ে বসে পাঞ্জাব, আরও একবার হাতছানি দিয়ে ডাকে পরাজয়। এমন সময় সব চাপ ঝেড়ে লাগাম ধরলেন আইয়ার। প্রভসিমরান সিংকে বানালেন নিজের সঙ্গী।

বাকিটা সময় অবিশ্বাস্য এক গল্প লিখলেন। যেখানে নায়ক কেবল তিনিই। ৫১ বলে ১০১ রানের ইনিংসটা রীতিমতো এক মহাকাব্য। ওটা যে পাঞ্জাবকে সপ্তম বারের চেষ্টায় জয়ের খোঁজ দিয়েছে। এ যে চাপের ভিতর দাঁড়িয়ে দলের হাল ধরা এক নেতার গল্প।
তিনি শুধু রান করেননি, দলের বাকি ব্যাটারদেরও দেখিয়ে দিয়েছেন লড়াইটা কীভাবে করতে হয়। কোন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়, কখন বোলারকে আক্রমণ করতে হয়। আর কীভাবে দাঁড়িয়ে থেকে দলকে জেতাতে হয়।
সাত উইকেটের এই জয়ের মধ্য দিয়ে আরও একবার নিজেদের প্লে-অফের জন্য জাগিয়ে তুলল পাঞ্জাব। যদিও ভাগ্য নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেই। চেয়ে থাকতে হবে কলকাতা নাইট রাইডার্স আর রাজস্থান রয়্যালসের দিকে। তাদের পরাজয়ই কেবল পারে পাঞ্জাবকে শেষ চারে সুযোগ দিতে।

সে যাইহোক, সব আলো কেড়েছেন এক আইয়ারই। ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি কে হবে, বোর্ড খুঁজছে এই প্রশ্নের উত্তর, আইয়ার নিজেই সেটা খুঁজে দিলেন। এমন নেতাকে তাঁর যোগ্য আসন না দিলে যে সবই বৃথা।
Share via:










