যে পায়ে থামে ফ্রান্স, যে হাত লিখে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন

বয়স কিংবা পরিবেশ কখনো একজন স্বপ্নবাজকে আটকায় কোন যোগ্যতায়? ধন্যবাদ, এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ।

দিগ্বিজয়ী সেনাপতিরাও একদিন ভরসা খোঁজেন সাধারণ যোদ্ধার চোখে। সর্বকালের সেরা ফুটবলারও বিশ্বজয়ের রাতে ভরসা খোঁজেন একজন সাধারণ গোলরক্ষকের হাতে। মঞ্চ যত বড়ই হোক, শেষ লড়াইয়ের মুহূর্তে ইতিহাস লিখে দেন সেই সাধারণ সৈনিক, ইতিহাস লিখে দেন এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ।

লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে কোলো মুয়ানি দৌড়ে যাচ্ছিলেন ইতিহাস লেখার জন্য। তার সামনে ছিলো কেবল ঘাসের সবুজ পথ আর আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ।

কিন্তু, সেই পথের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা এক লম্বা ছায়া, প্রসারিত বাম পা যেন যুদ্ধের শেষ ঢাল হয়ে ফ্রান্সকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো। হয়তো হাত দিয়েও শতবার সেভ করেছেন দিবু, কিন্তু ওই মুহূর্তের পায়ের সেভ? কে লেখে এমন চিত্রনাট্য! কে ভাসায় সাধারণকে অসাধারণত্বে!

টাইব্রেকারে ফিরে আসে হাতের জাদু। চাপা হাসি, প্রতিপক্ষকে মানসিক খেলায় নামিয়ে আনা, আর তারপর বুলেটের মতো শটকেও থামানো, দিবুর হাতে লেখা ছিলো ভাগ্যের রেখা। আর সেই রেখাতেই আঁকা হয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়।

কিন্তু দিবুর গল্প কেবল ওই রাতের নয়। গল্পটা শুরু হয়েছিল আর্সেনালের বেঞ্চে বসে থেকে। দ্বিতীয় গোলরক্ষক হিসেবে থেকে গেছেন বছরকে বছর, বয়স বাড়তে থেকেছে, সুযোগ আসেনি। তখন অনেকেই থেমে যেতেন, অনেকেই ‘কম্ফোর্ট জোন’-এর নিরাপত্তায় বাঁচতে চাইতেন।

দিবু বেরিয়ে এলেন। গন্তব্য অ্যাস্টন ভিলা। যে ভিলার নাম ইউরোপের সেরা মঞ্চে শোনাই যেন রূপকথা, দিবু তাকে পৌছে দিবেন চ্যাম্পিয়নস লিগে! এমন দু:সাহসের কথা কে শুনেছে কবে? দিবুর হাতে আঁকা হলো বাস্তব। একদিন সত্যিই ভিলাকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরিয়ে দিলেন।

এই জেনারেশনের সেরা গোলকিপারদের তালিকায় মার্টিনেজের নাম হয়ত আসবে না, বড় বড় ক্লাব কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে মার্টিনেজের জন্য অপেক্ষা করবে না। কিন্তু একটা জেনারেশন জানবে, স্বপ্ন যদি দেখা যায়, সেই স্বপ্ন পূরণে লড়তে হয় নিজের ঘামে, নিজের সাহসে।

বয়স কিংবা পরিবেশ কখনো একজন স্বপ্নবাজকে আটকায় কোন যোগ্যতায়? ধন্যবাদ, এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ।

লেখক পরিচিতি

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link