আর্জেন্টিনার জার্সিতে কালো বাহু বন্ধনী দেখে অনেকেই হয়তো প্রশ্ন তুলেছিলেন—কীসের শোক এই দলে? সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মেসিরা মাঠে নামার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করে দুঃসংবাদটি। না ফেরার দেশে চলে গেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার এন্তোনিও রাটিন। বয়স হয়েছিল উননব্বই।
বোকা জুনিয়র্সের জার্সিতে টানা পনেরো বছর মাঠ মাতানো এই তারকা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন এক দশক। কিন্তু তাঁর নাম ফুটবল ইতিহাসে আলাদাভাবে লেখা হয়ে গেছে একটামাত্র ঘটনার কারণে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে যা ঘটেছিল, তা আজও ফুটবলের কিংবদন্তি গল্পগুলোর একটি। ম্যাচের ছত্রিশ মিনিটের মাথায় এক ফাউলের প্রতিবাদ করায় জার্মান রেফারি রাটিনকে মাঠ ছাড়তে বলেন। ভাষাগত জটিলতায় রেফারির নির্দেশ বুঝতে না পেরে প্রথমে মাঠ ছাড়তে রাজি হননি তিনি। শেষমেশ যখন মাঠ ছাড়েন, প্রতিবাদের ভঙ্গিতে ইংল্যান্ডের পতাকা মুচড়ে দেন, প্রতিপক্ষকে গালি দেন, এমনকি রানীর জন্য বিছানো লাল গালিচার ওপর বসেও পড়েন বেশ কিছুক্ষণ।

সেই বিশৃঙ্খলাই ফুটবলে নতুন এক নিয়মের জন্ম দেয়। খেলোয়াড় আর রেফারির মধ্যে ভাষার এই দূরত্ব দূর করতে ফিফা পরে নিয়ে আসে হলুদ ও লাল কার্ডের ধারণা, যা প্রথম চালু হয় ১৯৭০ বিশ্বকাপে। ওয়েম্বলির সেই ঘটনা ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার ফুটবলীয় বৈরিতারও বীজ বুনে দিয়েছিল, যা পরে আরও গাঢ় হয় ফকল্যান্ড যুদ্ধ আর ডিয়েগো ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা সেই বিতর্কিত গোলের কারণে।
রাটিনের স্মরণে কালো বাহু বন্ধনী পরেই মেসি, ম্যাক আলিস্টাররা নামেন সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই লড়াইয়ে। আর সেই ম্যাচ জিতেই আর্জেন্টিনা এখন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সেই ইংল্যান্ডেরই। রাটিন বিদায় নিলেন এমন এক দিনে, যেদিন ইতিহাস যেন ফিরে এলো একই মাঠে, একই প্রতিপক্ষের নাম নিয়ে—এই মিলটা কি নিছক কাকতাল?












