বৈভবকে বাদ দেওয়ার নেপথ্যে কী কারণ?

যে প্রত্যাশা নিয়ে বৈভব সুরিয়াভানশি পা রেখেছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, সেটা কি মেটাতে পেরেছেন? তিন ম্যাচ সুযোগ দিতে তাঁকে আবার বসিয়ে দেওয়া, এটা কি ঠিক করল ভারত?

যে প্রত্যাশা নিয়ে বৈভব সুরিয়াভানশি পা রেখেছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, সেটা কি মেটাতে পেরেছেন? তিন ম্যাচ সুযোগ দিয়ে তাঁকে আবার বসিয়ে দেওয়া, এটা কি ঠিক করল ভারত? এমন সব প্রশ্নের যুক্তিযুক্ত উত্তর খোঁজা যাক।

আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকেই দলে ছিলেন। অনেকে ভেবেছিলেন সেখানেই অভিষেকপর্ব সেরে ফেলবেন বৈভব। তবে সেটা হয়নি। অপেক্ষা করতে হয় ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য। মূলত অফফর্মে থাকা সঞ্জু স্যামসনের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছিলেন, অভিষেকটা অবশেষে হয় বৈভবের। সবার উচ্চাশা ছিল, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) দুর্দান্ত পারফরম্যান্স টেনে আনবেন আন্তর্জাতিক অঙ্গণে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম তিন ম্যাচে বৈভবের ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ১৪, ১৩ ও ১৫ রান। কোনো ম্যাচেই ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। আর সেই তিন ম্যাচের পরই টিম ম্যানেজমেন্ট আবারও একাদশে ফিরিয়ে আনে অভিজ্ঞ সঞ্জু স্যামসনকে। ফলে জায়গা হারান বৈভব।

ভারতের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন দুই ধরনের আলোচনা চলছে। এক পক্ষের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা ধরে রাখতে হলে রান করতেই হবে। বয়স কিংবা অতীতের সাফল্য দিয়ে জাতীয় দলে জায়গা নিশ্চিত করা যায় না। একজন ওপেনার যদি টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থ হন, তাহলে দলে পরিবর্তন আনা স্বাভাবিক। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সঞ্জু স্যামসনকে ফেরানো খুব একটা অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নয়।

তবে অন্য পক্ষের যুক্তি ভিন্ন। তাদের মতে, মাত্র ১৫ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটারের কাছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলে নেওয়ার জন্য আরও সময় প্রয়োজন। এমন একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে মাত্র তিন ম্যাচের সুযোগ দিয়ে বাদ দেওয়া তাঁর আত্মবিশ্বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা আসলে ভিন্ন। প্রতিটা সিরিজে তাঁকে একটু একটু করে সুযোগ দেবে। খর্বশক্তির দলের বিপক্ষে পুরো সিরিজই খেলানো হবে। মূলত বৈভবকে আন্তর্জাতিক আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যই এমন চিন্তা। এখানে ভালো-খারাপ পারফরম্যান্সের কোনো ব্যাপার নেই।

ভারত স্পেশাল ট্যালেন্টের প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়। সময় বুঝে সুযোগ দেয়। বৈভবের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। আপাতত বৈভবের প্রধান কাজ ড্রেসিংরুমে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। এই ধাপ অতিক্রম করতে পারলেই মাঠের খেলাটাও সহজ হয়ে যাবে তাঁর জন্য।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link