সহজ সমীকরণকে কঠিন করার গল্প ও একটি সিরিজ জয়

এক সময় মনে হচ্ছিল, জয়টা কেবল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে বাংলাদেশ আবারও মনে করিয়ে দিল কেন তাদের 'আনপ্রেডিক্টেবল' বলা হয়। সহজ রানতাড়াকে শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেলেও শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশই। ৪ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ের মাটিতে অন্তত একটি সিরিজ জিতে স্বস্তি নিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ।

এক সময় মনে হচ্ছিল, জয়টা কেবল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে বাংলাদেশ আবারও মনে করিয়ে দিল কেন তাদের ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বলা হয়। সহজ রানতাড়াকে শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেলেও শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশই। ৪ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ের মাটিতে অন্তত একটি সিরিজ জিতে স্বস্তি নিয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়েকে ২০ ওভারে ১৪৩/৭ রানে আটকে রাখে বাংলাদেশ। শুরুতে মেহেদী হাসান, পরে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি স্বাগতিকরা। যদিও ডিয়ন মায়ার্সের লড়াকু ইনিংসে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে ছিল জিম্বাবুয়ে।

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই সাইফ হাসানের উইকেট হারালেও তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমনের জুটি দ্রুত চাপ সামলে নেয়। এরপর তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তানজিদ। ধৈর্য ও আক্রমণের দারুণ মিশেলে ৫৮ বলে ৬৬ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তার ইনিংসে ছিল চারটি ছক্কা। মাঝে ইয়াসির আলী রাব্বিও গুরুত্বপূর্ণ কিছু রান যোগ করে জয়কে সহজ করে দেন।

তবে শেষ দিকে আবারও পুরোনো সমস্যা সামনে আসে। জয়ের জন্য যখন খুব বেশি রান দরকার ছিল না, তখন অযথা ঝুঁকি নিয়ে একের পর এক উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২০তম ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন টানা দুই বলে আউট হলে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান নেমেই বাউন্ডারি মেরে সব শঙ্কার অবসান ঘটান।

সিরিজ জিতলেও বাংলাদেশের সামনে কিছু প্রশ্ন থেকেই গেল। সহজ ম্যাচ শেষ করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করা, ডেথ ওভারে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের অভাব এবং ধারাবাহিকতার সংকট এখনও পুরোপুরি কাটেনি। অন্যদিকে পুরো সিরিজজুড়েই জিম্বাবুয়ের দুর্বল ফিল্ডিং বাংলাদেশের ব্যাটারদের একাধিক সুযোগ করে দিয়েছে, যা ম্যাচের ফলেও প্রভাব ফেলেছে।

তবু এই সিরিজ থেকে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি রয়েছে। দীর্ঘদিন পর ইয়াসির আলী রাব্বি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, আর চোট কাটিয়ে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। সব মিলিয়ে নিখুঁত নয়, তবে জিম্বাবুয়ের মাটিতে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের কাছে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link