অর্থের ঝনঝনানির শ্রেষ্ঠ রাজা নেইমার!

অর্থের ঝনঝনানির বাজারে আজও একক সম্রাট হিসেবে রাজত্ব করছেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার।

ফুটবল এখন আর বল পায়ে ২২ জনের ছোটাছুটির খেলায় থেমে নেই। পরিণত হয়েছে অর্থের এক বিশাল বাজারে। ফুটবলের সবুজ গালিচায় কেবল বলের কারিকুরি নয়, ঘাসের নিচে লুকিয়ে থাকে এক বিশাল অংকের আর্থিক সমীকরণ। যেখানে নেইমার জুনিয়র ধরাছোঁয়ার বাইরে।

 

ক্লাব ফুটবলের এই ট্রান্সফার মার্কেট আসলে এক আধুনিক মায়াজাল। এই বাজারে কেউ বাজিমাত করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান, আবার কেউ বিশাল প্রত্যাশার ভার বইতে না পেরে হারিয়ে যান অতলে। তবে মাঠের সাফল্য ছাপিয়ে এখানে দিনশেষে সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে এক জাদুকরী সংখ্যা, ট্রান্সফার ফি।

 

অর্থের ঝনঝনানির বাজারে আজও একক সম্রাট হিসেবে রাজত্ব করছেন ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমার। ২০১৭ সালে বার্সেলোনা থেকে প্যারিসের মেঘমুক্ত আকাশে পাড়ি জমানোর সময় তিনি যে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর মাইলফলক স্থাপন করেছিলেন, এত বছরেও তা স্পর্শ করতে পারেনি কেউ।

বিশাল অংকের বহু দল পরিবর্তন হলেও নেইমার আছেন সবার উপরে। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে দেওয়া ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে মোনাকো ছেড়ে পিএসজিতে পাড়ি দেন ১৮০ মিলিয়নের বিনিময়ে। এই বিশাল অংকও যেন নেইমারের সামনে কম বলে মনে হয়।

 

​তবে শুধু একবার দলবদল নয়, পুরো ক্যারিয়ারের হিসেবেও নেইমার বিস্ময়ের নাম। ক্যারিয়ারে মাত্র তিন বার ক্লাব বদলেই তিনি বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন অবিশ্বাস্য ৪০০ মিলিয়ন ইউরো। অবাক হতে হয় এই কারণে যে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা রোমেলু লুকাকুকে ৩৬৯.৯ মিলিয়নের জন্য দল বদলাতে হয়েছে নয় বার।

 

​এই তালিকার অন্যদের ভেতর পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নামও আছে। তাঁর পাঁচ বারের দলবদলে ব্যয় হয়েছে ২৪৭ মিলিয়ন ইউরো। এছাড়া ২৪৬ মিলিয়ন নিয়ে আলেকজান্ডার ইসাক এবং ২৩৩ মিলিয়নে উসমান দেম্বেলেদের মতো ফুটবলার এই অর্থের দৌড়ে নাম খোদাই করিয়েছেন।

মাঠে বলের দখলই নয়, ফুটবলে অর্থের বাজার দখলও এখন গুরুত্ব পায় ব্যাপকভাবে। কখনো কখনো অর্থের হিসাবটাই মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় আর রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। দলবদলের এই গল্প শুধু ফুটবলারদের পেছনে ঢালা অর্থ নয় বরং দলিল দেয় এই খেলার বিবর্তিত রূপের।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link