ছয় নম্বরের মরীচিকায় শামীম এক পশলা বৃষ্টি

যেখানে থিতু হতে গিয়ে অনেক প্রতিভাবান ব্যাটার হারিয়ে গেছেন সময়ের স্রোতে। তবে সেই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এখন এক নতুন আশার নাম শামীম হোসেন পাটোয়ারী।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে লোয়ার মিডল অর্ডার বা ছয় নম্বর পজিশনটি দীর্ঘকাল ধরেই এক গোলকধাঁধার নাম। যেখানে থিতু হতে গিয়ে অনেক প্রতিভাবান ব্যাটার হারিয়ে গেছেন সময়ের স্রোতে। তবে সেই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এখন এক নতুন আশার নাম শামীম হোসেন পাটোয়ারী। কেবল পাওয়ার হিটিং নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ আর ধ্বংসাত্মক মেজাজের এক বিরল মিশেলে নিজেকে তৈরি করছেন এই তরুণ।

গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশ যে ২৯টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, তার প্রতিটিতেই দলের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন শামীম। গত পাঁচ বছরের খতিয়ান বলছে, এই নির্দিষ্ট পজিশনে ১৮ বার ব্যাটিং করতে নেমে তিনি পেছনে ফেলেছেন অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেও।

জাকের আলী বা নুরুল হাসান সোহানদের মতো সমসাময়িক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিড়ে শামীমকে আলাদা করেছে তার স্ট্রাইকরেট। এই মুহূর্তে ১৩৫.৪৪ স্ট্রাইকরেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের ফিনিশারদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানে।

​সাধারণত ছয় নম্বর ব্যাটারদের কাছে প্রত্যাশা থাকে কেবল চার-ছক্কার। কিন্তু শামীমের প্রস্তুতিতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন এক ছবি। মিরপুরের নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি ব্যয় করছেন ‘ভি’ আকৃতিতে সোজা ব্যাটে খেলার জন্য। স্লিপের দিক থেকে ব্যাট না নামিয়ে এখন আরও সোজাসুজি ব্যাট চালাচ্ছেন তিনি। শামীমের মতে, ‘দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে দলকে টেনে নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই আমি এই ধ্রুপদী ব্যাটিং রপ্ত করছি’।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি মনে করি শামীম ‘ভি’-তেও খেলতে সক্ষম কারণ ওয়ানডেতে এমন দিন আসবে যখন হাতে অনেক সময় থাকবে এবং তাকে ভিন্নভাবে ব্যাট করতে হবে। তার সেই সামর্থ্য আছে।’

খুব বেশি বল খেলার সুযোগ হয়তো শামীম পান না, দশ বল বা ১২ বলের সেই সংক্ষিপ্ত আয়ুষ্কালেই তিনি বুঝিয়ে দেন তার প্রভাব। শুধুমাত্র টেম্পারমেন্ট নিয়ে কাজ করলেই ছয় নম্বর পজিশনে তিনি যে একটা প্রোপার প্যাকেজ হয়ে উঠবেন, তা বলাই বাহুল্য।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link