যখনই সংকট আসে, ফ্লোরেন্তিনা পেরেজ সমাধান খোঁজেন ইতিহাসের ধূলিজমা পাতায়। বার্নাব্যুর আকাশে যখনই ব্যর্থতার কালো মেঘ জমে, সাদা রাজপ্রাসাদের অধিপতির মনে পড়ে সেই পুরোনো সেনাপতি হোসে মরিনহোর কথা। কিন্তু ২০২৬ সালের আধুনিক ফুটবলে দাঁড়িয়ে মরিনহো কি সত্যিই কোনো ত্রাণকর্তা, নাকি এক চরম হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত?
২০১০ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা ভাবুন। পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনা যখন বিশ্ব ফুটবল শাসন করছে, পেরেজ তখন ‘স্পেশাল ওয়ান’কে বরণ করেছিলেন কেবল এক মহৎ শিল্পকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে। মরিনহো সফল হয়েছিলেন, কিন্তু তার চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল মাদ্রিদকে।
মাঠের সাফল্যের চেয়েও তিনি বেশি জন্ম দিয়েছিলেন তিক্ততা আর বিভাজন। সেই বিষবাষ্প মাদ্রিদ ড্রেসিংরুম ছাড়িয়ে এমনকি স্পেনের সোনালী প্রজন্মকেও দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছিল। ২০১৩ সালে যখন তিনি বিদায় নেন, বার্নাব্যুর আঙিনায় তখন ড্রেসিংরুমের বিদ্রোহ আর বিবাদের পোড়া গন্ধ।

পেরেজ হয়তো বর্তমান পরিস্থিতির সাথে ২০১০ সালের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। লিগে বার্সেলোনার দাপট আর মাদ্রিদের টানা দুই মৌসুম ট্রফিহীন থাকার শঙ্কা। কিন্তু মরিনহো এখন আর সেই অজেয় জাদুকর নন। গত ১১ বছরে কোনো বড় লিগ শিরোপা তাঁর ছোঁয়ায় আসেনি।
২০২২ সালের ‘কনফারেন্স লিগ’ জয়ই এখন তাঁর বর্তমান যোগ্যতার মাপকাঠি। যে ফুটবল বিশ্ব এখন আলোর গতিতে আধুনিক হচ্ছে, সেখানে মরিনহোর কৌশলগুলো আজ বড্ড সেকেলে, যেন এক মরচে পড়া পুরোনো তলোয়ার।
মাদ্রিদ ড্রেসিংরুম সামলানো মানে একঝাঁক মহাতারকার অহং সামলানো। ইকার ক্যাসিয়াস কিংবা সার্জিও রামোসের মতো কিংবদন্তিদের সাথে তাঁর সেই ঐতিহাসিক রেষারেষি আজও ভুলে যায়নি ভক্তরা। বর্তমান স্কোয়াডের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিংবা এমবাপ্পেদের মতো তারকাদের জন্য মরিনহোর নেতিবাচক ফুটবল কতটা মানানসই হবে, তা নিয়ে সংশয় আকাশচুম্বী।

জাবি আলোনসোকে ঘিরে নেওয়া দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর পেরেজ এখন মরিয়া। তিনি বিশ্বাস করেন, মাদ্রিদের এই ছন্নছাড়া অবস্থায় একজন ‘কঠোর অভিভাবক’ প্রয়োজন। কিন্তু পিএসজি কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের মতো দলগুলো যখন গতির ফুটবলে বিশ্ব কাঁপাচ্ছে, পেরেজ তখন ফিরতে চাইছেন রক্ষণাত্মক ফুটবলের পুরোনো সেই অন্ধকার গলিতে।











