টেস্ট ক্রিকেটের ‘অনিরাপদ’ ভবিষ্যৎ

বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটের সূচিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ম্যাচগুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর টেস্ট সূচি ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে।

জোর যার, মুল্লুক তাঁর। বিশ্ব ক্রিকেটে এখন তাই চলছে, মনে করেন কেন উইলিয়ামসন। নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক কেন সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি কেবল ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডই টেস্ট ক্রিকেটে আধিপত্য বজায় রাখে, তাহলে এই ফরম্যাট টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।

তাঁর মতে, ঐতিহ্যবাহী এই ফরম্যাটকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সব ক্রিকেট খেলুড়ে দেশকেই সমানভাবে অংশ নিতে হবে ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শীর্ষ দেশগুলো এলিট সিন্ডিকেট না ভাঙলে বাঁচানো যাবে না টেস্ট ক্রিকেট।

মঙ্গলবার সিইএটি ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ডসে উপস্থিত হয়ে উইলিয়ামসন বলেন, ‘যদি মাত্র তিনটি দলই টেস্ট খেলে, তাহলে ফরম্যাটটি বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হবে। আমরা অবশ্যই ভারত-অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের সিরিজগুলো উপভোগ করি, কিন্তু এগুলো টেস্ট ক্রিকেটের সামগ্রিক বিকাশে খুব একটা সহায়ক নয়।’

নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম সফল অধিনায়ক উইলিয়ামসন ২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে কিউইদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) ফাইনালে, যেখানে তারা শিরোপা জেতে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি মনে করেন, বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দেশগুলোকেও নিয়মিত টেস্ট খেলার সুযোগ দিতে হবে।

উইলিয়ামসন বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে অনেক দেশেই টেস্ট ক্রিকেট চাপে রয়েছে। টিকে থাকার জন্য ফরম্যাটটিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিষয়ে নানা আলোচনা চলছে— কীভাবে টেস্ট ক্রিকেটকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা যায়, সেটাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

বর্তমানে টেস্ট ক্রিকেটের সূচিতে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ম্যাচগুলোই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর টেস্ট সূচি ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে। আইসিসিতেও এই বড় শক্তিগুলোর প্রাধান্যই বেশি। এর সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আধিপত্য তো আছেই।

উইলিয়ামসনের এই মন্তব্য তাই বিশ্ব ক্রিকেটে আবারও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে— টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ আসলে কতটা নিরাপদ?

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link