৬১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন ধুঁকছে। বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখা একপ্রকার বিলাসিতা। তখনই বিপর্যয়ের অন্ধকার ফুঁড়ে বের হলেন তাওহীদ হৃদয়। এরপর শুরু হলো চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করার চেষ্টা। দিনশেষে দলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করলেন হৃদয়, একটু স্বার্থপর হলে যে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা পেলেও পেতে পারতেন।
অস্ট্রেলিয়ার চেপে ধরা চাপকে ব্যাট দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছিলেন একটু একটু করে। সিঙ্গেল-ডাবলে স্ট্রাইক রেটটাও নিজের অনুকূলেই রেখেছেন। আবার সুযোগ বুঝে বলটাকে সীমানাছাড়া করতেও দ্বিধাবোধ করেননি।
লিটনকে সঙ্গে নিয়ে ৯৫ রানের জুটি গড়েছেন। পরিস্থিতি যেমন চেয়েছে তেমনই রূপ ধারণ করেছেন হৃদয়। মিডল অর্ডারে নিজের দায়িত্ব পালনে কোনো ফাঁকফোকর রাখেননি।

সময় গড়িয়েছে, লিটন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে ছুটেছেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি এসেছে ব্যাটে। তখন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৌকতকে। তাঁর সঙ্গে মিলে রান তুলেছেন ৯০।
ফিফটির পর আরও ধারালো হয়েছে হৃদয়ের ব্যাট। অজি বোলারদের দুর্বিষহ সময়টা আরও দীর্ঘায়িত করলেন ইনিংসের গতি বাড়িয়ে। মনেই হচ্ছিল সেঞ্চুরিটা বুঝি পেয়েই যাবেন। সময়-সুযোগ সবই ছিল হৃদয়ের কাছে। তবে তিনি কেবল দলের কথাই ভেবেছেন। ব্যক্তিগত মাইলফলকের কথা বোধহয় মাথায় ছিল না।
নইলে কি আর ৮৩ রানে দাঁড়িয়ে ছক্কা হাঁকানোর সাহসটা দেখান? অনবদ্য এই ইনিংসের যবনিকা পতন যে সেখানেই ঘটেছে। ৮৮ বল খেলেই ফিরেছেন সাজঘরে। তবে যাওয়ার আগে বাংলাদেশকে ঠিকই শক্ত অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছেন। ওটাই যে তাঁর লক্ষ্য ছিল, সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ থাকলেও তৃপ্তির ঢেঁকুরটা তাই তুলতেই পারেন হৃদয়।

Share via:










