‘তোমাকে একটিবার দেখতে পাবো এটুকু ভরসা পেলে অনায়াসে ডিঙাবো এই কারার প্রাচীর।’ – কবি মহাদেব সাহার আবেগের এই আদিম ব্যাকুলতাই যেন বাস্তবে রূপ নিল বুয়েন্স আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মহাতারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী প্রহরটুকু স্বচক্ষে দেখার জন্য ৪০ ঘণ্টার যাত্রা আর প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটারের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছেন ভারতের কেরালার যুবক ইয়াদিল ইকবাল। অনলাইনে টিকিট না পেয়েও বুক ভরা আশা নিয়ে ঘর ছাড়েন ইয়াদিল। প্রিয় নায়ককে উপহার দেওয়ার জন্য সঙ্গে নিয়েছিলেন একটি নীল-সাদা ঘড়ি।
কোদুনগালুর গ্রাম থেকে সড়কপথে বেঙ্গালুরু, সেখান থেকে লন্ডন ও নিউ ইয়র্ক হয়ে আর্জেন্টিনায় পৌঁছান তিনি। প্রতারণার ভয় জেনেও বুয়েন্স আয়ার্সের ব্ল্যাক মার্কেট থেকে মূল দামের তিনগুণ তথা এক হাজার ডলার খরচ করে টিকিট সংগ্রহ করেন।
মেসির প্রতি ইকবালের ভালোবাসা চিরকালের। নিজের সন্তানের নাম তিনি রেখেছেন ‘লিয়ান মেসিল’। নিজ বাড়িতে বানিয়েছেন ৩২ মিটার দীর্ঘ মেসির এক বিশাল ম্যুরাল।

তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা জেতার পর আমি বাড়ির কাছে এটি তৈরি করিয়েছিলাম। তবে চলতি বছরের জুনে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর পর ইনস্টাগ্রামে এটি দেখতে পান মেসি। সেটাই ছিল আমার জীবনের সেরা দিন।’ চার বছর আগে মেসিকে বিশ্বকাপ জিততে দেখার পর নিজের জীবনের আর কোনো চ্যালেঞ্জকেই ইকবাল অসম্ভব মনে করেন না।
সব আলো নিভে যাওয়ার পর স্টেডিয়াম যখন খালি হয়ে আসছিল, তখনো গ্যালারিতে স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন ইকবাল। প্রিয় নায়কের বিদায়ের মধ্য দিয়ে যেন তাঁর নিজের জীবনেরও একটি সোনালী অধ্যায়ের যবনিকাপাত ঘটল।
৪০ ঘণ্টার ক্লান্তিকর পথ কিংবা হাজার হাজার মাইলের দূরত্ব! সবকিছুই ফিকে হয়ে গিয়েছিল এক অলৌকিক অনুরাগের কাছে। কারণ কিছু ভালোবাসা হিসাব-নিকাশের সীমানা ছাড়িয়ে চিরকালের জন্য অমর হয়ে রয়।












