গিরিপথ থেকে মহাকাশের পথে, অনন্ত আফগান রুপকথা

প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে নতুন গল্পের বুনতে ওস্তাদ পাহাড়তলির দুর্গম জনপথের মানুষেরা। ওই সব বিধ্বস্ত গিরিপথ শিখিয়েছে জীবনের মানে। ধূসর অন্ধকার ছাপিয়ে সূর্যালোকের আলোর মাহাত্ম্য আফগানদের জানা।

রুপকথাও হার মানে। ধুলো মাখা শরীরে বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখা মোটেও বাড়াবাড়ি নয়। আফগানিস্তান দলটা ক্রিকেট ময়দানে প্রতি মুহূর্তে নিজেদের ছাপিয়ে যাচ্ছে। আকাশ পানে তাদের যাত্রা থামছে না, রশিদ খানরা থামতে দিচ্ছেন না। আগে তো ছিল স্রেফ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, এখন ওয়ানডে ক্রিকেটকে নিজেদের হাতের মুঠোয় করতে চলেছে দলটি।

প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মঞ্চে হাজির। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দাবি তারা এখনই জানাচ্ছেন না। কিন্তু দলটা নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখে। সেই বিশ্বাসের জোরেই তো তারা গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলে ফেলেছিল। অর্জনটা ঠিক কতটা গুরুত্ববহ তা হয়ত অনেকেই আন্দাজ করতে পারছেন না।

প্রায় দুই যুগ ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসর খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কখনোই উঠতে পারেনি টাইগাররা। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য তিন জয়।

পার্থক্যটা দিনের আলোর মতই স্পষ্ট। টি-টোয়েন্টি অবশ্য নিয়ম করেই দারুণ খেলে আসছে আফগানিস্তান। সে কারণেই তো বিশ্বব্যাপী ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টগুলোতে আফগান খেলোয়াড়দের আলাদা কদর তৈরি হয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটেও তারা নিজেদের সমীহ আদায় করে নিতে চান।

সে লক্ষ্যে তাদের যাত্র শুরু হয়েছিল ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। সেবারও সেমিফাইনাল খেলার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। চারটা জয় তুলে নিয়েছিল তারা। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের দম্ভকে পাহাড়ের পাদদেশে নামিয়ে এনেছিলেন তারা। দলটা যে ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন।

এরপর আরেক বিশ্বকাপ জয়ী দল পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করেছিল। শ্রীলঙ্কাও ধুলো চেখে দেখেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সেমিফাইনালের যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল তার। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবিস্মরণীয় পরাজয় তাদেরকে রুখে দিয়েছিল।

যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে পরাজয়কেই কারণ বলে দাবি করেছিলেন আফগান কিংবদন্তি মোহাম্মদ নবী। বাংলাদেশের কাছে জয়ের খুব কাছে গিয়েও হেরেছিল আফগানিস্তান। দলটার উত্থানের গল্পগুলো রুপকথার ভিন্ন কিছু নয়। সেই বিশ্বকাপের পর থেকে পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে আফগানিস্তান।

সেই পাঁচ সিরিজের চারটিই জিতেছে দলটি। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি রয়েছে নিকট অতীতে লেখা ইতিহাসে। সেই দলটাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। জয় ভিন্ন অন্য কিছু ভাবার সুযোগ কই!

নিজেদের পাহাড় চড়া রোমাঞ্চের যাত্রা চালিয়ে যেতে চাইবে আফগানিস্তান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাদের গ্রুপটা ভীষণ কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মত দলের বিপক্ষে খেলতে হবে তাদেরকে। সেমিফাইনালের টিকিট কাটতে হলে অন্তত দুটি ম্যাচ জিততেই হবে।

প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে নতুন গল্পের বুনতে ওস্তাদ পাহাড়তলির দুর্গম জনপথের মানুষেরা। ওই সব বিধ্বস্ত গিরিপথ শিখিয়েছে জীবনের মানে। ধূসর অন্ধকার ছাপিয়ে সূর্যালোকের আলোর মাহাত্ম্য আফগানদের জানা। তাইতো সামনে থাকা এক বিন্দু সুযোগকেও তারা এক বিশাল জলরাশিতে রুপান্তর করে সর্বদা। এ গল্পের কোন সমাপ্তি নেই, হবেও না হয়ত।

Share via
Copy link