লুকা মদ্রিচ, আপনি কি ক্লান্ত হন না? জীবনের এ পর্যায়ে এসে আপনার কি এতটুকু ক্লান্তি অনুভব হয় না? উত্তর আপনাকে দিতে হবে না, রিয়াল মাদ্রিদের খেলা দেখা প্রতিটা চোখ জানে সেই উত্তর। ওর্স্ট সাইনিং হয়ে যে পথ শুরু হয়েছিল, সেই পথ আপনাকে কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে তবু থামার লক্ষণ নেই। এখনো তেজি ঘোড়ার মত ছুটে চলছেন মাঠের এপ্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত।
বয়সের কাঁটা অবশ্য আটকে রাখা যায়নি, এগুতে এগুতে উনচল্লিশ পেরিয়ে চল্লিশ হওয়ার কাছাকাছি। নিয়মিত তাই শুরুর একাদশে থাকেন না; কিন্তু বুটজোড়ায় এখনো মরিচা পড়েনি, এখনো রিফ্লেক্স, ভিশন কিংবা গেমসেন্স কোথাও ভাটা পড়েনি।
জিরোনার বিপক্ষে সেটাই তো প্রমাণ করলেন ক্রোয়াট মহারথী। ডি বক্সে ঢোকা তো দূরের কথা, ৩০ গজ দূরে দাঁড়িয়েই তিনি শট নিলেন নিঃসংকোচে। ঠেকাবে এমন সাধ্য কার, আপন ছন্দে বলটা দর্শকদের চোখে বিস্ময় এঁকে দিলো আর রিয়াল মাদ্রিদ এগিয়ে গেলো ১-০ গোলে। লিগে রিয়ালের সবচেয়ে বুড়ো গোলদাতার রেকর্ড তো আগে থেকেই তাঁর দখলে ছিল, সেটা আরো জোরদার করলেন যেন।

কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়রের যুগলবন্দীতে যে গোলটা এসেছে সেটা নিশ্চয়ই মুগ্ধ করেছে সবাইকে। সেই গোলটার পিছনেও কিন্তু মদ্রিচের নাম আছে, দুর্দান্ত কাউন্টার এটাকের শুরুই হয়েছিল এমবাপ্পের কাছে তাঁর পাস দেয়া থেকে। এছাড়াও পুরোটা সময় একের পর এক থ্রু পাসে তিনি নাচিয়ে ছেড়েছেন প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে।
সবচেয়ে বেশি ১০৩টা পাস খেলেছেন এই মিডফিল্ডার, ম্যাচের সর্বোচ্চ ছয়টা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন তিনি – এতকিছুর পর আসলে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে আক্ষেপ থাকার কথা নয়, একেবারে দশে দশ পাওয়ার মত পারফরম্যান্স বটে।
এর মধ্য দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদও হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে, লা লিগায় টানা তিন ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর অবশেষে জয়ের দেখা পেলো তাঁরা। আপাতত বার্সেলোনার সমান পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে আছে দলটি; এক পয়েন্ট কম নিয়ে তিন নম্বরে আছে অ্যাতলেটিকো। শিরোপার লড়াই সত্যিই জমে ক্ষীর!











