রাঠির আগ্রাসনটাই তাঁর লাঠি

সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে মনিপুরের বিপক্ষে ১১ রান ‍দিয়ে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। এরপর দিল্লী ক্যাপিটালসের বিপক্ষে অক্ষর প্যাটেল আর মিশেল স্টার্ককে বিভ্রান্ত করলেন। তখন থেকেই শুরু হল আলোচনা - কে এই দিগভেশ সিং রাঠি?

নির্বিকার মুখ, চোখে চুপচাপ আত্মবিশ্বাস—তাঁকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না, প্রথম আইপিএল আসর খেলতে নেমেছেন। নাম দিগভেশ সিং রাঠি, পরিচয় লেগ স্পিনার। কিন্তু, আগ্রাসন যেন একজন পেসারের মত। ব্যাটারকে আউট করেই, হাতে লিখে দেন তাঁর শেষ ঠিকানা – ড্রেসিংরুম। এমন উদযাপনের জন্য বিসিসিআই তাঁকে জরিমানা করলেও, উদযাপন করা তিনি থামাননি।

এতটাই রহস্যময় এই রাঠি। তবে, এই রহস্য কোনোদিনই মিডিয়ার হেডলাইনে ঠাঁই পায়নি।  ২০২৪ সালের দিল্লী প্রিমিয়ার লিগ — রাঠির জন্য মঞ্চটা ছিল যেন বাস্তবের গল্পকথা। দক্ষিণ দিল্লী সুপারস্টার্সের হয়ে খেলতে নেমে ১০ ম্যাচে ১৪ উইকেট। বল হাতে এলিট ব্যাটারদের ঘোল খাইয়ে দেন, তিনি বোলিংয়ে আসা মানেই বিপক্ষ ডাগআউটে নীরবতা। খোদ ঋষাভ পান্তকে বেকায়দায় ফেলে আলোচনার ঝড় তোলেন সেই আসরে।

জেদ্দায় হওয়া আইপিএলের মেগা নিলামে লখনৌ সুপারজায়ান্টস যখন তাঁকে ৩০ লাখ রূপির বিনিময়ে কিনে নেয়, তখন কেউ বিশেষ আলোচনা করেনি। মিডিয়ার হেডলাইন দখল করে নিয়েছিল শতকোটি টাকার সাইনিং, চমকপ্রদ বিদেশি নাম। কিন্তু, রাঠি ছিলেন দাবার সেই নি:শব্দ ঘুঁটি, যাকে ঠিক সময়ে চাললেই বদলে যেতে পারে ম্যাচের রং।

সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে মনিপুরের বিপক্ষে ১১ রান ‍দিয়ে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। এরপর দিল্লী ক্যাপিটালসের বিপক্ষে অক্ষর প্যাটেল আর মিশেল স্টার্ককে বিভ্রান্ত করলেন। তখন থেকেই শুরু হল আলোচনা – কে এই দিগভেশ সিং রাঠি?

অভিজ্ঞতার ঝুলিতে খুব বেশি কিছু নেই, কিন্তু আত্মবিশ্বাস পাহাড়সম। রানের খরা থামিয়ে উইকেট এনে দিতে পারেন, আবার ডট বলের চাপেও ব্যাটারদের হাঁসফাঁস করিয়ে তুলতে পারেন। লখনৌর স্পিন-নির্ভর আক্রমণে রাঠি এখন সেই আশার নাম। আশার সেই সুবাতাস ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষেও।

২০৪ রান তাঁড়া করতে গিয়ে মুম্বাই হেরে যায় মূলত রাঠির সামনেই। চার ওভারে ২১ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। সময়ের অন্যতম সেরা টি-টোয়েন্টি ব্যাটার তিলক ভার্মা ২৩ বলে মাত্র ২৫ রান করতে পারেন, রাঠির সামনে তাঁর যেন কোনো উত্তরই ছিল না। ম্যাচ শেষে তাই এতদিনকার অজানা রাঠিই ম্যাচ সেরা। এই অজানা সব হিরোরাই তো ক্রিকেটের সবচেয়ে সুন্দরতম নায়ক।

Share via
Copy link