অভিজ্ঞতার আলোয় ভেসে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম কোনো ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার মাইলফলকে পা রাখার দ্বারপ্রান্তে তিনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।
প্রথমে আয়ারল্যান্ড কেবল এক টেস্ট খেলতে রাজি ছিল। পরে বোর্ড পর্যায়ের আলোচনায় পরিবর্তন আসে সিদ্ধান্তে। অবশেষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজেই সম্মত হয়েছে দুই দেশ। সিরিজের প্রথম টেস্ট মাঠে গড়াবে ১০ নভেম্বর, সিলেটে। কাকতালীয় ভাবে সেদিনটা হবে, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের রজতজয়ন্তী।

আর সেই টেস্ট দিয়েই শুরু হবে মুশফিকের শততমের যাত্রা। তবে প্রকৃত মাইলফলক ধরা দেবে মিরপুরের শের বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, ১৮ নভেম্বর। এ মাঠেই ইতিহাসের পাতায় নাম লিখবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’। রঙিন পোশাককে বিদায় জানানোর পর মুশফিকের সকল মনোযোগ এখন শুধুই লাল বলের ক্রিকেটে।
লর্ডসে অভিষেক হয়েছিল মুশফিকের, ২০০৫ সালে। বয়স তখন মাত্র আঠারো বছর। ইংল্যান্ডের পবিত্র সেই মঞ্চে শচীন টেন্ডুলকারের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট খেলেছিলেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের যাত্রায় নিজেকে তুলেছেন অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে একমাত্র ছয় হাজারের বেশি রান সংগ্রাহক তিনি। তার ব্যাট থেকে এসেছে দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও—২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯ রান।

এই সিরিজ শেষে মাঠে নামবে দুই দল ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে। চট্টগ্রামে ২৭ ও ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্রথম দুটি টি–টোয়েন্টি। সমাপ্তি ঘটবে ঢাকায়, ২ ডিসেম্বর। বাংলাদেশ ক্রিকেটের দীর্ঘ যাত্রায় অসংখ্য উত্থান–পতনের সাক্ষী মুশফিকুর রহিম। এবার তিনি নিজেই ইতিহাস হয়ে উঠতে চলেছেন। ১০০ টেস্টের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে—যেন সময়ও অপেক্ষা করছে, মিরপুরের সেই দিনটির জন্য।










