রাফায়েল দিয়াজ বেলোলি—রাফিনহা। স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালের রাতে যেন এই একটি নামই ঘুরে ফিরেছে চারদিকে। মৌসুমের প্রথম শিরোপা জয়ের রাতে বার্সেলোনার গল্পটা যে তাঁকে ঘিরেই, তা ম্যাচের শেষ অংকে লাল কার্ডের নাটক হওয়ার পরও বদলায়নি।
সৌদি আরবের জেদ্দায় রুদ্ধশ্বাস, টানটান উত্তেজনার এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে ৩–২ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এবং ইতিহাসে রেকর্ড ১৬তমবারের মতো স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতে নেয় এফসি বার্সেলোনা। আর সেই জয়ের প্রধান নায়ক নি:সন্দেহে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনহা।
১১ নম্বর জার্সিতে নামা রাফিনহা ফাইনালে খেলেন দুর্দান্ত এক ম্যাচ, করেন জোড়া গোল। ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে তার নেওয়া শটটি ডিফেন্ডার রাউল আসেনসিওর গায়ে হালকা ডিফ্লেকশন খেয়ে রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে ভুল পথে পাঠায়। সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত।

এই পারফরম্যান্সেই হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা নিশ্চিত করে মৌসুমের প্রথম ট্রফি। ফাইনালের আগেও সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন রাফিনহা।
পুরো টুর্নামেন্টে চার গোল করে সুপার কাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ছয়—যার ফলে তিনি এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে এসেছেন। বার্সেলোনার হয়ে সবশেষ পাঁচ ম্যাচে এটি ছিল রাফিনহার সপ্তম গোল। জমজমাট এই এল ক্লাসিকোর আলো পুরোপুরি নিজের দখলে নিয়ে নেন তিনিই।
তবে শেষ মুহূর্তে নাটক কম ছিল না। ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বার্সেলোনা যখন জয়ের খুব কাছে, তখন ৯০ মিনিটের পর কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ফ্র্যাঙ্কি ডি ইয়ং। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় প্রবল চাপে পড়ে যায় বার্সা।

এই সুযোগে জাবি আলোনসোর শিষ্যরা মরিয়া হয়ে সমতার খোঁজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একের পর এক আক্রমণ এলেও বার্সেলোনার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোল আর পাওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখেই উদযাপনে মাতে কাতালানরা।
ম্যাচ শেষে বিনয়ী রাফিনহা বলেন, ‘আমি শুধু দলকে সাহায্য করতে চাই। ম্যাচসেরা হওয়াটা সম্মানের, কিন্তু দলে আরও অনেকেই এই পুরস্কার পেতে পারত। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়া।’
সব মিলিয়ে, স্প্যানিশ সুপার কাপের এই জয় বার্সেলোনার জন্য যেমন স্মরণীয়, তেমনি রাফিনহার জন্যও এটি হয়ে থাকল নিজের নাম উজ্জ্বল করে লেখার আরেকটি রাত হয়ে। ম্যাচ শেষে এক হাতে নিলেন ট্রফি, শরীরে জড়ানো ব্রাজিলের পতাকা। ইউরোপিয়ান মঞ্চে ব্রাজিলের নামে কেঁপে উঠল আরেকবার।











