অবশেষে হল অভিষেক শর্মার বিশ্বকাপ অভিষেক। দুনিয়ার এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হিসেবে তার আগমন ঘটে বিশ্বকাপে। প্রত্যাশার চাপ বাড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইকরেটও। সেসবই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তার জন্য। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফর্মে ফিরলেন অভিষেক শর্মা। একেবারে মোক্ষম সময়ে নিজের চেনা ছন্দ ফিরে পেলেন।
টানা তিন ডাকের রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপ বিষিয়ে তুলেছিলেন অভিষেক। অথচ তাকে কেন্দ্র করেই ছিল ভারতের ব্যাটিংয়ের সিংহভাগ পরিকল্পনা। সেমিফাইনালে যাওয়ার পথটাও তার অফফর্মের কারণেই দোলাচলে পড়ে গেছে- এই কথা বলতেও নিশ্চয়ই দ্বিধা হওয়ার কথা নয়।
কিন্তু সেমিফাইনালের যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখার ম্যাচেই জ্বলে উঠল অভিষেকের ব্যাট। যদিও শুরুতে সেই আত্মবিশ্বাসী অভিষেকের অভাবটা হয়েছে পরিলক্ষিত। শট চালিয়েছেন, তাতে ছিল না সেই বিশ্বাসের ছোঁয়া। নিজেকে হয়ত সন্দেহ করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে, নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে শুরু করেন।

প্রায় দুইশোর কাছাকাছি স্ট্রাইকরেটে ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে বলে হয়ত নাক সিটকাবে অনেকেই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে একজন ব্যাটারের ব্যাটে রান তার সমস্ত শক্তির উৎস। সেই রানটা অবশেষে আসতে শুরু করেছে অভিষেকের ব্যাটে। আর এটাই যেন ভারতকে আরেকটু নির্ভার করছে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিততে পারলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটি হবে ভারতের জন্য অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল। যে জিতবে সেই যাবে সেমিফাইনালে। ওমন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে অভিষেকের ব্যাট হাসা অত্যন্ত জরুরি। সে জন্য তার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে হতো। তিনি তাই খর্বশক্তির জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাওয়া সুযোগটা দু’হাতে লুফে নিলেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ অবধি ৩০ বলে ৫৫ রান করে আউট হয়েছেন অভিষেক। তবে চারটি করে চার-ছক্কাই অভিষেকের জন্য যথেষ্ট। তার সামর্থ্যের প্রতি নিজের বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য। এখন স্রেফ ক্লাচ মোমেন্টে নিজের ভেতরের সেই দানবটাকে বের করে আনতে পারলেই, শুরুর সব ব্যর্থতা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে চোখের পলকে।












