বিসিএল শেষ, ট্রফি উঠেছে সেন্ট্রাল জোনের হাতে। তবে উপসংহারে একটা প্রশ্ন থেকে গেছে, ২০২৭ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কথা চিন্তা করে আয়োজিত টুর্নামেন্টের প্রাপ্তি আসলে কী? আরও নির্দিষ্ট করে বললে ঠিক কতজনকে জাতীয় দলের জন্য পাওয়া গেল?
বিসিএলে বেশ কয়েকজন পারফর্ম করেছেন যারা জাতীয় দলের সর্বশেষ স্কোয়াডে নেই। আবার কেউ জাতীয় দলের চেনা মুখ। এদের নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ তৈরি করলে দাঁড়ায়, নাইম শেখ, তানজিদ তামিম, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, তাওহীদ হৃদয়, আফিফ হোসেন, আকবর আলী, এস এম মেহরব, রিশাদ হোসেন, আবু হায়দার রনি, নাহিদ রানা এবং রিপন মন্ডল।
এদের মধ্যে সবশেষ জাতীয় দলের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারের সংখ্যা তিনজন, রিশাদ, হৃদয় এবং তামিম। বাকি আটজন বিসিএল টুর্নামেন্টে আলো ছড়িয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। এবার প্রশ্নটা, এদের মধ্যে কেউ কি আছেন যিনি ওয়ানডে দলে নিজের জন্য আসন তৈরি করতে পেরেছেন? উত্তরটা পরখ করে দেখা যাক।
ওপেনিং দিয়ে শুরু করলে সেখানে নাইম বিসিএলে চার ইনিংসে ২৪০ রান করেছেন। তাঁর গড় ৬০। আসরের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও তিনি। তাঁর সঙ্গে রাখা হয়েছে তানজিদ হাসান তামিমকে। যিনি চার ইনিংসে ১৮৭ রান করেছেন ৬৪ গড়ে। নাইম জাতীয় দলের বাইরে, তামিম স্কোয়াডে থাকলেও ম্যাচ পান না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে জাতীয় দলের ওপেনিং রোলে কি এই দুজনকে বিবেচনা করা হবে?

ওপেনিংয়ে বর্তমান দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সাইফ হাসান এবং সৌম্য সরকার। বিসিএলে সৌম্যের তিন ইনিংস মিলিয়ে প্রাপ্ত রানসংখ্যা ১৮। যদিও বল হাতে ছয় উইকেট পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে সাইফ হাসান চার ইনিংস মিলিয়ে রান করেছেন ১২৭। শেষ ম্যাচে ৮৮ রান ব্যতীত তেমন বলার মতো কিছু তিনি করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে যে খুব ভালো টাচে রয়েছেন সেটাও না। তবে সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচে সৌম্যের রান ছিল ৯১ আর সাইফের ৮০।
এবার আসা যাক এদের টপকে নাইম-তামিম সুযোগ পাবেন কিনা। তামিম স্কোয়াডে ব্যাকআপ অপশন হিসেবে আছেন। তাঁর হিসাবটা এখানে বাদ দিলে নাইম থাকেন। তবে ঘরোয়ায় পারফর্ম করলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুব একটা আলো ছড়াতে পারেননি। তাই তো তাঁর জন্য এত সহজে হয়তো দরজা খুলবে না।
তিন, চারে নাজমুল হোসেন শান্ত কিংবা হৃদয়ের জায়গাটা ফিক্সড জাতীয় দলের জন্য। তাই তো রবিনের সুযোগ এখানে নেই। তবে সমস্যার জায়গাটা পাঁচ, ছয় নম্বরে। সেখানে প্রপার মিডল অর্ডার ব্যাটার নেই বললেই চলে। বিসিএলের সেরা একাদশ থেকে দুজনের নাম আলোচনায় আসতে পারে। আফিফ এবং আকবর আলী। তিন ইনিংসে এক সেঞ্চুরির সঙ্গে ১২৮ রান করা আফিফ হতে পারেন মিডল অর্ডারের জন্য বেশ সম্ভাবনাময় নাম। আর ছয়ে এক শতকের সঙ্গে ১৫২ রান করা আকবর হতে পারেন অপশন। সেক্ষেত্রে নুরুল হাসান সোহান কিংবা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে হারাতে হতে পারে।
বোলিং ইউনিট নিয়ে খুব বেশি কাটাছেঁড়া করার সুযোগ নেই। তবে ব্যাকআপ হিসেবে চাইলে রিপনকে রাখা যেতে পারে। টুর্নামেন্টে চার ইনিংসে শিকার করেছেন আট উইকেট। আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। তাসকিন আহমেদের ইনজুরি-প্রবণতা, সেই সঙ্গে ডেথ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গী হিসেবে রিপন হতে পারেন ভালো ডিল।

সবমিলিয়ে শূন্যতা পূরণের জন্য যে প্রস্তুতির কথা বলা হচ্ছিল, সেখানে শতভাগ না হলেও প্রাপ্তির খাতায় মার্কটা একেবারেই কম না। বিশেষ করে সমস্যা সমাধানের বিকল্প হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ। এখন দেখার এটা কতটুকু কাজে লাগে বা লাগানো হয়।











