টস মিস, তো ম্যাচ মিস

উইকেটের কন্ডিশন কিংবা আবহওয়ার নিরিখে ক্রিকেটে টস বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে টস যেন কেবল মুদ্রা নিক্ষেপ নয়, বরং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক  হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উইকেটের কন্ডিশন কিংবা আবহওয়ার নিরিখে ক্রিকেটে টস বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে টস যেন কেবল মুদ্রা নিক্ষেপ নয়, বরং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক  হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বপ্রথম ২০১৬ সালে ভারত পূর্ণাঙ্গ আয়োজক দেশ হিসেবে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দায়িত্ব পায়। সেই টুর্নামেন্টে শেষ চারে উঠে স্বয়ং ভারত, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথম সেমিফাইনালে দিল্লিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ব্ল্যাককাপসরা। টসে জিতে ইয়ন মরগ্যান বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৩ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। যা ১৭ বল হাতে রেখেই টপকে ফেলে জেসন রয় – জস বাটলারেরা।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়ের হাই ভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস জিতে বোলিং বেছে নেয় ক্যারিবিয়ানরা। বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার ব্যাটে ভর করে ১৯২ রানের পাহাড় গড়েও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি ভারত। শিশির ভেজা মাঠে বোলারদের অসহায়ত্ব আর লেন্ডল সিমন্সদের তান্ডবে দুই বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় ক্যারিবীয়রা।

ফাইনালে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখানেও যেন টসই ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ড কুড়ি ওভার শেষে স্কোরকার্ডে যোগ করতে পেরেছিল ১৫৫ রান। মার্লন স্যামুয়েলস এর বিধ্বংসী ৮৫ এবং কার্লোস ব্র‍্যাথওয়েটের ঐতিহাসিক চার ছক্কার কল্যাণে দ্বিতীয় বারের মতো এই ফরম্যাটে রাজার মুকুট পরে ক্যারিবীয়রা।

প্রায় এক দশক পর আবারও ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসলে সেই পুরনো চিত্রনাট্যেরই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডে মুখোমুখি হয় আসর জুড়ে অপরাজিত থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা।

এবারও টসে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আগে ব্যাট করে পাঠায় মিচেল স্যান্টনার। দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে কোন বেগই পেতে হয় না নিউজিল্যান্ডকে। ফিন অ্যালেনের অতিমানবীয় ইনিংসে ৪৩ বল এবং নয় উইকেট হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করে কিউইরা।

পরিসংখ্যান স্পষ্ট বলছে, ভারতের মাটিতে নক আউট মানেই যেন ‘টস জেতো, ম্যাচ জেতো’র এক অলিখিত সমীকরণ। মুদ্রার এক পিঠ যখন উল্লাস দিচ্ছে, অন্য পিঠ তখন প্রথম ইনিংসের সংগ্রাহকদের জন্য হয়ে উঠছে একরাশ হতাশার কারণ।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link