১০ রানের আক্ষেপ বুকে নিতে সাজঘরে ফিরলেন সামির রিজভি। তবে ৯০ রানের ইনিংসজুড়ে শুধুই ছিল বিজয়ের স্লোগান। দিল্লি ক্যাপিটালসকে টানা দুই ম্যাচ একার হাতে জেতানো, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নামজাদা সব বোলারকে শাসন করা, এটা যে চাট্টিখানি কথা নয়। তবে রিজভি যে একটু বিশেষ, অসাধ্য সাধনের মহানায়ক তিনি।
২০২৪ সাল, চেন্নাই সুপার কিংস ৮.৪০ কোটি রূপিতে দলে ভিড়িয়েছিল সামির রিজভিকে। বয়সটা তখন মাত্র ২০। নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। সেবার হলুদ জার্সিতে পাঁচ ইনিংসে ব্যাট করে রান তুলেছিলেন মাত্র ৫১।
এমন ব্যর্থতার পর চেন্নাই তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। অপারগতার কালিমা মাথায় নিয়ে যোগ দেন নতুন ডেরায়। হীরে চিনতে ভুল করেনি দিল্লি ক্যাপিটালস। রিজভির ভেতরে থাকা সম্ভাবনার আলো ঠিকই দেখতে পেয়েছিল তারা।

দিল্লির জার্সিতে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। অনন্ত প্রতিভার এক ঝলক দেখান ২০২৫ সালের আসরে। পাঁচ ইনিংসে নামের পাশে ১২১ রান ওঠে তাঁর। এর মধ্যে হার না মানা পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসটা মূলত একটা বার্তা দিয়ে রেখেছিল, ‘সময়টা আসছে’।
২০২৬ সাল, ২২ বছরের তরুণের চোখে নতুন স্বপ্ন। আসরের প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৭০ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন সময়টা এসে গেছে। লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে রীতিমতো একাই টেনেছিলেন দলকে।
ওটাকে এক ম্যাচের বিস্ময় হিসেবে ধরা যেতে পারে। তবে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ৯০ রানের যে অবিশ্বাস্য মহাকাব্য লিখলেন, এটাকে কীভাবে বর্ণনা করা যায়? টানা দুই ম্যাচ একা হাতে দলকে জেতানো এক দুরসাধ্য কাজ। সেটাকেই যে সহজে সাধন করলেন রিজভি।

সাত রানেই দুই টপ অর্ডারের দুই ব্যাটারকে হারিয়ে দিল্লির আকাশ ছেয়ে গেছে কালো মেঘে। মেঘ সরানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন রিজভি। কঠিন উইকেট, মুম্বাইয়ের শক্তিশালী বোলিং লাইন-আপ—সবকিছুকে বুড়ো আঙুল দেখালেন। ফিফটি এলো, উদযাপন করলেন আয়েশি মেজাজে। তবে থামল না তাঁর অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটে চলা ব্যাটটা।
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা বেঁচে উঠেছিল, দলের যখন ১২ রান দরকার জিততে, রিজভি তখন দাঁড়িয়ে ৯০ রানে। তবে নার্ভটা আর ধরে রাখতে পারলেন না। ৫১ বলে ৯০ রানের ম্যাচ জেতানো নক খেলে তবেই ফিরলেন সাজঘরে। বয়স ২২ হলে কী হবে, ব্যাটটা যে পরিপক্ক।











