মিরপুরের একাডেমি মাঠে পরিচিত পরিবেশের মাঝেই হঠাৎ চোখ আটকে যায় এক অচেনা যন্ত্রে। নেটের এক পাশে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ধাতব কাঠামোটা সাধারণ কোনো যন্ত্র নয়। নাম তার ‘মারলিন’। আর এই নামের ভেতর লুকিয়ে আছে এক কিংবদন্তির ছায়া — তিনি শেন ওয়ার্ন।
এই মারলিন তৈরি হয়েছিল ঠিক ওয়ার্নের ঘূর্ণিকে বুঝে ওঠার জন্য। ২০০৫ সালের অ্যাশেজে ইংল্যান্ড দল যখন মরিয়া হয়ে ওয়ার্নকে সামলানোর উপায় খুঁজছিল তখনই এর আবির্ভাব। তখন এর নাম ছিল ভার্চুয়াল ওয়ার্নি। এখনকার নাম মারলিন, অনুশীলন শেষে ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিস জানালেন এই যন্ত্রের নাম মারলিন বাইবোলা।
ওয়ার্ন ছিলেন এক রহস্য, এক ধাঁধা। সেই ধাঁধার উত্তর খুঁজতেই ইংল্যান্ড নিয়ে আসে এই স্পিন বোলিং মেশিন। মারলিনের কাজটা ছিল অদ্ভুতভাবে নিখুঁত। ল্যাপটপ দিয়ে নিয়ন্ত্রিত এই মেশিন এমনভাবে বল ছুঁড়তে পারত, যাতে ওয়ার্নের লেগ ব্রেক, ফ্লিপার, এমনকি তার সেই ভয়ংকর রেভল্যুশনও অনুকরণ করা যায়।

ব্যাটসম্যানরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতেন, যেন তারা সত্যিকারের ওয়ার্নকেই মোকাবিলা করছেন। তবু, সাবেক স্পিনার টেরি জেনারের মতো কেউ কেউ বলেছিলেন—যন্ত্র যতই নিখুঁত হোক, ওয়ার্নের কব্জির জাদু পড়া কখনোই সম্ভব নয়।
তবু এই মেশিন ইংল্যান্ডকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিল। চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটা রিহার্সাল ছিল এটা। তবে, মাঠের চিত্রটা ভিন্ন, সেই ২০০৫ সালের অ্যাশেজে ওয়ার্ন একাই নেন ৪০ উইকেটে।
দুই দশক পর, সেই ইতিহাস ছুঁয়ে থাকা প্রযুক্তির নতুন সংস্করণ এসে পৌঁছেছে মিরপুরে। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নেটে এখন ঘুরছে সেই মারলিনের আধুনিক রূপ। প্রায় ২১ হাজার ডলারের এই স্পিন বোলিং মেশিন এখন অনুশীলনের নতুন সঙ্গী বাংলাদেশ দলের।

তবে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—মারলিন কি সত্যিই একজন ওয়ার্ন বা রশিদ খানের বিপক্ষে ব্যাটারদের তৈরি করতে পারে? সেই উত্তরটা সম্ভবত মাঠের ক্রিকেটের জন্যই তৈরি রেখেছে বাংলাদেশ দল।










