মিয়ামির আকাশে বিচ্ছেদের সুর

মিয়ামির সেই মেসি-কেন্দ্রিক সুরম্য অট্টালিকার দেয়ালে প্রথম বড় ফাটলটি ধরল কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানোর আকস্মিক বিদায়ে।

ইন্টার মিয়ামির প্রতিষ্ঠাতা জর্জ মাস যখন ফ্লোরিডার উপকূলে এক টুকরো স্বপ্ন বুনেছিলেন, তখন লক্ষ্য ছিল একটাই – লিওনেল মেসিকে ঘিরে এক অপরাজেয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলা। সেই পরিকল্পনা সফলও হয়েছিল। ন্যু স্টেডিয়ামের জমকালো উদ্বোধন থেকে শুরু করে লিগস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড আর ২০২৫ এর এমএলএস কাপ জয় – মিয়ামি হয়ে উঠেছিল ফুটবলের নতুন এক তীর্থস্থান। কিন্তু ২০২৬ এর এই লগ্নে সেই সাফল্যে কিছুটা ভাটার টান লেগেছে।

মিয়ামির সেই মেসি-কেন্দ্রিক সুরম্য অট্টালিকার দেয়ালে প্রথম বড় ফাটলটি ধরল কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানোর আকস্মিক বিদায়ে। ব্যাক্তিগত কারণ দেখিয়ে তার এই ইস্তফা ফুটবল মহলে জন্ম দিয়েছে একরাশ জল্পনার। ঠিক ১৮ মাস আগে টাটা মার্তিনোকেও একই ধূম্রজালের আড়ালে বিদায় দিয়েছিল ক্লাবটি।

মাশ্চেরানোর আমলে মিয়ামি দাপট দেখালেও আক্ষেপ হয়ে রইল ‘কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ’। আঞ্চলিক শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে বারবার হোঁচট খাওয়া মিয়ামির বিশাল বাজেট আর মহাতারকাদের শ্রেষ্ঠত্বকে শেষ পর্যন্ত প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মাঠে মেসির সেই ছায়াসঙ্গীরা এখন একে একে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাচ্ছেন। মাঝমাঠের নিপুণ কারিগর সার্জিও বুসকেতস আর নেই, ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন জর্দি আলবাও। লুইস সুয়ারেজ এখনো স্কোয়াডে থাকলেও সময়ের অমোঘ নিয়মে তিনি এখন কেবলই অতীতের ছায়া।

মাশ্চেরানোর শূন্যস্থানে এখন দায়িত্ব সামলাচ্ছেন গুইলার্মো হোয়োস। মেসির শৈশবের এই গুরুর সামনে চ্যালেঞ্জটা পাহাড়সম। কারণ, বুসকেতসের উত্তরসূরি হিসেবে রদ্রিগো ডি পল বা ইয়ানিক ব্রাইটরা পরিশ্রমী হলেও তাদের পায়ে নেই সেই শৈল্পিক ধ্রুপদী ছন্দ।

ইন্টার মায়ামি এবং মেসি এখন একে অপরের সমার্থক। তবে এই রূপকথার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে – ২০২৮ সালের জুন। জর্জ মাসের সামনে এখন দ্বিমুখী অগ্নিপরীক্ষা। একদিকে মেসিকে তুষ্ট রাখা, অন্যদিকে মেসির পরবর্তী শূন্যতা পূরণে ক্লাবকে ঢেলে সাজানো। সব মিলিয়ে ফ্লোরিডার নীল আকাশ যেন এক অনিশ্চয়তার কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link