পুরাতন প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন প্রচ্ছদ

বল পায়ে ড্রিবলিং কিংবা বুলেট গতির শটে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার দিনগুলো হয়তো গোধূলি বেলায় পৌঁছেছে,তবে এবার বুট পায়ে নয়, এই দ্বৈরথের প্রস্তুতি চলছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বোর্ডরুমে।

ফুটবল বিশ্বের আকাশছোঁয়া যে দুটি নক্ষত্র গত দুই দশক ধরে সবুজ গালিচায় শ্রেষ্ঠত্বের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন, সেই লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লড়াই কি তবে শেষ হয়েও হইলো না শেষ? বল পায়ে ড্রিবলিং কিংবা বুলেট গতির শটে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার দিনগুলো হয়তো গোধূলি বেলায় পৌঁছেছে,তবে এবার বুট পায়ে নয়, এই দ্বৈরথের প্রস্তুতি চলছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বোর্ডরুমে।

সম্প্রতি লিওনেল মেসি স্পেনের ‘তেরসেরা ফেডারেশন’ এর ক্লাব ‘করনেলা’-এর  শতভাগ মালিকানা কিনে নিয়েছেন। এর আগেও ‘দেপার্তিভো এলএসএম’ কিংবা স্বীয় শহর রোজারিওতে ‘লিওনেস ডি রোজারিও’ -এর মতো ক্লাবের মালিকানায় রয়েছে এলএমটেন এর নাম। মাঠের ফুটবল থেকে অবসরের পরবর্তী জীবনের ছক হয়তো এভাবেই কষছেন তিনি।

ঠিক এই বিন্দুর সমান্তরালে দাঁড়িয়ে আছেন তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আগে থেকেই স্পেনের সেগুন্দা ডিভিশনের ক্লাব ‘আলমেরিয়া’-এর পঁচিশ শতাংশ মালিকানার অংশীদার রোনালদো। মেসি যখন তার নব্য কেনা ক্লাব করনেলা নিয়ে স্প্যানিশ ফুটবলে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার স্বপ্ন বুনছেন, তখন সেখানে রোনালদোর আলমেরিয়া এক প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছে।

​তবে ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, মাঠের লড়াইয়ে এই দুই ক্লাব কবে নাগাদ একে অপরের মুখোমুখি হবে? সমীকরণটি কিছুটা জটিল হলেও অসম্ভব নয়। করনেলা লা লিগার স্বপ্নে পৌঁছাতে হলে পাড়ি দিতে হবে সেগুন্দা ফেডারেশন এবং প্রাইমেরা ফেডারেশনের কঠিন পথ।

লিগ পর্যায়ে এই দুই ক্লাবের দেখা হওয়াটা আপাতত সময়ের হাতে বন্দি থাকলেও, আলমেরিয়ার প্রমোশন কিংবা রেলিগেশনের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে। অর্থাৎ, মালিক হিসেবে এই দুই মহাতারকার সরাসরি সংঘাত দেখতে ফুটবল বিশ্বকে আরও কয়েকটা বসন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

যদিও দীর্ঘ প্রতীক্ষার বাইরেও এক ঝটকায় দেখা হওয়ার একটি পথ খোলা আছে, আর সেটি হলো ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্ট ‘কোপা দেল রে’। বর্তমানে লিগ টেবিলে করনেলার যে অবস্থান, তাতে তারা আগামী মৌসুমে এই টুর্নামেন্টে খেলার জোরালো দাবিদার। অন্যদিকে সেগুন্দা ডিভিশনের দল হিসেবে আলমেরিয়া সেখানে অবধারিতভাবেই থাকছে। ফুটবলের এই আইকনিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে বোর্ডরুমের টেবিলে কেমন রূপ নেয়, তা দেখতেই মুখিয়ে আছে গোটা ফুটবল বিশ্ব।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link