ইউসিএল সেমিফাইনালের ভাগ্য যাদের পায়ে

সেমিফাইনালে যাদের পায়ের জাদু দলকে এনে দিতে পারে বুদাপোস্টের ফাইনাল টিকিট, সেই আলোচনাই থাকছে খেলা ৭১ এর এই আয়োজনে।

​চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল মানেই এক মরণপণ দাবার চাল। যেখানে প্রতিপক্ষের সামান্য ভুল আর একজনের পায়ের জাদু গড়ে দেয় ইতিহাস। পিএসজির রাজকীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম বায়ার্নের রক্তক্ষয়ী ঐতিহ্য, কিংবা আর্সেনালের তরুণ তেজ বনাম অ্যাটলেটিকোর ইস্পাতকঠিন জেনোতত্ত্ব। ফুটবল দেবতারা যেন নিজের হাতে সাজাচ্ছেন এই মহানাটকের মঞ্চ।

সেমিফাইনালে যাদের পায়ের জাদু দলকে এনে দিতে পারে বুদাপোস্টের ফাইনাল টিকিট, সেই আলোচনাই থাকছে খেলা ৭১ এর এই আয়োজনে।

এবারের মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের সাফল্যের অন্যতম কান্ডারি মাইকেল ওলিসে। তার ড্রিবলিং দক্ষতা এবং গোল তৈরির অসাধারণ ক্ষমতা তাকে ইউরোপের অন্যতম কার্যকর উইঙ্গারে পরিণত করেছে। বায়ার্নের শক্তিশালী আক্রমণভাগের অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ওলিসে সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়াতে পারেন।

অন্যদিকে প্রতিপক্ষ পিএসজির মাঝমাঠের আসল স্থপতি হলেন ভিতিনহা। তার পাসিং পরিসংখ্যান কেবল বিস্ময়করই নয়, বরং ঐতিহাসিক। এক মৌসুমে ১,৩৭০টিরও বেশি সফল পাস দিয়ে তিনি দুই দশক আগের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। পিএসজির প্রতিটি আক্রমণ শুরু হয় তার পা থেকে।

আর্সেনালের রক্ষণভাগের দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন ডেভিড রায়া। গোলবারের নিচে তার অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতা গানার্সদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। এই আসরে এখন পর্যন্ত শট ঠেকানোর ক্ষেত্রে তিনি ৯০ শতাংশ সাফল্য দেখিয়েছেন, যা যেকোনো গোলরক্ষকের জন্য ঈর্ষণীয়। কোয়ার্টার ফাইনালে তার হাত ধরেই আর্সেনাল খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসেছে।

তবে রায়াকে চ্যালেঞ্জ জানাতে দিয়াগো সিমিওনের ডেরায় প্রস্তুত জুলিয়ান আলভারেজ। মাঠজুড়ে তার বিরামহীন দৌড় আর রক্ষণে সাহায্য করার মানসিকতা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে। চলতি আসরে নয়টি গোল করে তিনি ইতোমধ্যেই অ্যাটলেটিকোর হয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে সবচেয়ে বাড়তি নজর থাকবে হ্যারি কেইনের অভিজ্ঞতার আর ফর্মের উপর। ৪৫ ম্যাচে ৫৩ গোলের অবিশ্বাস্য এক পরিসংখ্যান নিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে। কেইনের জন্য এটি কেবল একটি ট্রফি জেতার লড়াই নয়, বরং আজন্ম লালিত সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ। তার অতিমানবীয় ফর্ম যদি সেমিফাইনালেও অটুট থাকে, তবে বায়ার্ন মিউনিখকে থামানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এছাড়াও অ্যাটলেটিকোর রক্ষণভাগ আগলে প্রতিপক্ষের অ্যাটাক থামিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে মাত্তেও রুগেরির উপর।বায়ার্নের মিডফিল্ড জেনারেল জশুয়া কিমিচ, পিএসজির আশরাফ হাকিমি এবং ড্রিবলিংয়ের শিল্পী কভারাতসখেলিয়াও ওত পেতে আছেন প্রতিপক্ষের ভুল ধরার অপেক্ষায়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link