কার্তিকের ব্যাটে ধোনির পুনর্জন্ম

কার্তিক শর্মা ব্যাটটিকে বন্দুকের মতো তাক করলেন। এ যেন মহেন্দ্র সিং ধোনির সেই আইকনিক 'গানশট' উদযাপনের প্রত্যাবর্তন। 

চিপকের আকাশ তখন গোধূলির আবিরে মাখামাখি। গ্যালারির হলুদ সমুদ্রে আছড়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষের উত্তাল হিল্লোল। ট্রেন্ট বোল্টের বলটি সীমানা ছাড়া হতেই এক তরুণের উদযাপন মনে করিয়ে দিল কুড়ি বছর আগের সেই ফেলে আসা সোনালী অতীত। কার্তিক শর্মা ব্যাটটিকে বন্দুকের মতো তাক করলেন। এ যেন মহেন্দ্র সিং ধোনির সেই আইকনিক ‘গানশট’ উদযাপনের প্রত্যাবর্তন।

২০০৫ সালের অক্টোবর মাস। জয়পুরের সওয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বোলারদের নির্দয়ভাবে শাসন করে ধোনি লিখেছিলেন ১৮৩* রানের এক মহাকাব্য। সেই আগ্নেয়গিরির মতো বিচ্ছুরণের পর ধোনি ব্যাট হাতে লক্ষ্যভেদ করেছিলেন অদৃশ্য কোনো শিকারের।

সেই সেঞ্চুরির পর করা ধোনির সেই আইকনিক উদযাপন আজ ২০ বছর পর ফিরিয়ে আনলেন তরুণ কার্তিক। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে কার্তিক লাজুক হেসে জানান, ‘এটা আমার আইপিএলের প্রথম ইনিংস, প্রথম ফিফটি। মনে মনে আগেই ছক কষে রেখেছিলাম, আজ রান পেলেই মাহি ভাইয়ের সেই উদযাপনটি ফিরিয়ে আনব।’

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দেওয়া ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চেন্নাইয়ের শুরুটা ছিল বেশ গোছানো। বল হাতে আগেই আনশুল কম্বোজ ও নূর আহমেদরা মুম্বাইকে ১৫৯ রানে আটকে রেখে জয়ের পথ প্রশস্ত করেছিলেন।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড। ৪৮ বলে ৬৭ রানের এক নান্দনিক ও অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান তিনি।

​অন্যদিকে কার্তিক শর্মা ৪০ বলে সাজানো নিজের ৫৪ রানের হার না মানা ইনিংসে মারেন চারটি চার ও তিনটি বিশাল ছক্কা। কার্তিক জানান, অধিনায়ক রুতুরাজ তাকে শুধু বলেছিলেন নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেটটা খেলতে। অধিনায়কের সেই আস্থার প্রতিদান কার্তিক দিয়েছেন ১১ বল হাতে রেখেই দলকে আট উইকেটের বড় জয় উপহার দিয়ে।

ধোনির সেই ‘অদৃশ্য বন্দুক’ আজ কার্তিকের হাতে এক জীবন্ত মশাল হয়ে জ্বলে উঠল। যা মনে করিয়ে দিল – সম্রাট বিদায়লগ্নে থাকলেও সাম্রাজ্যের গরিমা কক্ষনো ম্লান হয় না। চিপকের ঘাসে আজ এক নতুন তারার জন্ম হলো, যার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নটা শুরু হলো এক কিংবদন্তির পদচিহ্ন ছুঁয়েই।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link