বাংলাদেশ ও পাকিস্তান – দুই দেশের সর্বশেষ সিরিজটা টাইগারদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকলেও, এবার মাঠে নামার আগে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে হতে হবে সাবধান। কারণ, বিপদের নাম হয়ে উঠতে পারেন সালমান আলী আঘা।
সকলেরই জানা আছে ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাটে বাংলাদেশের মূল শক্তি তাঁদের স্পিনাররা। ঘরের মাঠে যখন খেলতে নামা হয় তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই অনুসারে পিচ ও একাদশ বানিয়ে থাকা হয়ে থাকে। নানা সময়ে এইভাবে সুফল পেলেও এই সিরিজে বাংলাদেশের পক্ষে চিন্তাহীন থাকা যাবে না।
পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারে সালমান আলী আঘা এমন এক খেলোয়াড় যার জন্য আলাদা করে পরিকল্পনা করার প্রয়োজন। ২০২২ সালে অভিষেকের পর থেকে দলের মিডল অর্ডারের অন্যতম ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি।

যখনই পাকিস্তানের শুরুর দিকের ব্যাটাররা প্রতিপক্ষের বোলিংয়ের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন তখনই ত্রাতার রূপে যেন আবিভূর্ত হন সালমান। ছয়-সাতের দিকে ব্যাটব করতে নেমে দলের হাল ধরেছেন এমন ইনিংসের সংখ্যা কম নয়।
লোয়ার-মিডল অর্ডারে খেলতে নামেন, তাতেই ২৩ ম্যাচে করেছেন প্রায় দেড় হাজার রান। গড় ৩৯ এর উপরে, যে জায়গায় খেলতে নামেন সেই হিসেব ধরতে গেলে ব্যাটিংটা আসলেই ঈর্ষা করার মতো। এমনকি পাকিস্তানকে তাঁদের মাঠে যখন বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ করলো সেই সিরিজেও একটি অর্ধশতক হাঁকিয়েছিলেন সালমান।
লাল বলের ক্রিকেটে ৪৪ ইনিংস ব্যাট করতে নেমে দশবার ফিফটির পাশাপাশি তিনটি শতক। দলের ব্যাটিংয়ে কিভাবে তিনি হাল ধরে রাখতে পারেন তা যেন এই পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে দেখলেই স্পষ্ট বুঝতে পারা যায়।

শুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও সালমান বিপদ তৈরি করতে পারার সম্ভাবনা রাখেন। বাংলাদেশের ব্যাটাররা বড় কোনো জুটি গড়ার পথে থাকলে নিজের স্পিন দিয়ে সেটা ভেঙে ফেলার সক্ষমতা তাঁর আছে।
স্পিননির্ভর বাংলাদেশের জন্য তাই তো বিপদের নাম হয়ে উঠতে পারেন সালমান।মেহেদী হাসান মিরাজ কিংবা তাইজুল ইসলামদের মতো স্পিনারদের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে নামা সালমানকে তাই তো শিকার করতে হবে পেসারদের দিয়ে।
প্রতিপক্ষের শেষের দিকের উইকেট ফেলতে গিয়ে বাংলাদেশি বোলারেরা এখন ভোগান্তির শিকার হন। সেই জায়গাতেই তো সালমান নামেন। তাই তো এই জায়গায় চিন্তা করতে হবে আরেকটু বেশি করে। বোলারদের সাজাতে হবে এমন পরিকল্পনা যাতে এই পাকিস্তানি ভয়ের নাম না হতে পারেন।










