টেস্ট চ্যালেঞ্জের সামনে বাবর আজম

সকালটা যেন একটু অন্যরকমই ছিল বাবর আজমের জন্য। ঢাকায় পা রেখেই হোটেলে বিশ্রাম নয়, বরং সরাসরি মাঠে। ব্যাট হাতে নেমে পড়লেন বাবর আজম—চোখেমুখে এক ধরনের নীরব জেদ। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ সামনে, আর প্রস্তুতিতে কোনো ঢিলেমি নেই ‘বাদশাহ’র। টি-টোয়েন্টির চ্যালেঞ্জ মিটিয়ে তিনি এখন টেস্টে নিজেকে উজাড় করে দিতে মরিয়া। আবারও নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ।

সময়টা কিন্তু জাতীয় দলে তার জন্য সহজ যাচ্ছে না। একসময় যিনি ছিলেন পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম, সেই বাবরই এখন জায়গা নিয়ে চাপের মধ্যে থাকেন। আগের মতো ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখা যাচ্ছে না। সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ৩১ বছর বয়সী এই ডানহাতি ব্যাটার। ফলে সমালোচনার ঝড়টা বইছেই—বিশেষ করে ছোট ফরম্যাটে তার ব্যাটিং স্টাইল নিয়ে।

বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠতে না পারার পর সেই সমালোচনা আরও তীব্র হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—এই ফরম্যাটে বাবর কি আদৌ মানানসই? তবে সমালোচনার ভিড়ের মাঝেই নিজের মতো করে জবাব দিয়েছেন তিনি। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) যেন নতুন করে নিজের ব্যাট কথা বলেছে। দুইটি সেঞ্চুরি, তিনটি ফিফটি—সব মিলিয়ে ৫৮৮ রান। শুধু রানই না, বদলে গেছে তার খেলার গতি। ১৪৫.৯০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং—যা তার জন্য একদমই নতুন এক চেহারা।

এই রান তাকে ছুঁইয়ে দিয়েছে আরেকটি বড় মাইলফলকে। ফখর জামান-এর গড়া এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড—৫৮৮। ২০২১-২২ মৌসুমে ১৩ ইনিংসে যে কীর্তি গড়েছিলেন ফখর, ঠিক সেই সংখ্যাতেই পৌঁছে গেছেন বাবর। যদিও, রোববারের ফাইনালে বাবরের ব্যাট থেমে যায় শূন্যতেই, গোল্ডেন ডাক। তবে সেদিন আলো কেড়ে নেন অ্যারন হার্ডি—তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে হারিয়ে ২০১৭ সালের পর আবারও শিরোপা জেতে পেশোয়ার জালমি।

এসব ওঠানামার মাঝেই বাবরের মন এখন অন্য জায়গায়। টি-টোয়েন্টির সব বিতর্ক সরিয়ে রেখে তিনি তাকিয়ে আছেন টেস্ট ক্রিকেটের দিকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে তিনি এখন ঢাকায়,আর তার প্রস্তুতিও বলছে, এই ফরম্যাটে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে চান তিনি।

তবে সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ—বাংলাদেশের পেস আক্রমণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ধারালো। তাদের বিপক্ষে টিকে থাকা, রান করা—সবই হবে কঠিন এক পরীক্ষা। তবুও, বাবর আজম মানে তো সহজ পথের গল্প নয়। প্রশ্নটা এখন একটাই—সমালোচনা, চাপ, আর প্রত্যাশার পাহাড় পেরিয়ে তিনি কি পারবেন নিজেকে উজাড় করে দিতে? মাঠই দেবে সেই উত্তর।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link