টেস্টেও কি দেখা যাবে শরিফুলের ঝলক!

টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে—দুটোতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন, এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নামলেই পূর্ণ হবে ‘ষোলকলা’। প্রশ্ন একটাই—এই ধারাবাহিকতা কি টেস্টের মঞ্চেও বজায় রাখতে পারবেন তিনি?

এক মাস, সময়টা খুব বেশি না, কিন্তু এই অল্প সময়েই যেন দুই পৃথিবী ঘুরে তিন নম্বরের অপেক্ষায় শরিফুল ইসলাম। সাদা বলের ঝলকানি, রঙিন জার্সির উত্তাপ পেরিয়ে এবার তার সামনে লাল বলের দীর্ঘ পরীক্ষা। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে—দুটোতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন, এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নামলেই পূর্ণ হবে ‘ষোলকলা’। প্রশ্ন একটাই—এই ধারাবাহিকতা কি টেস্টের মঞ্চেও বজায় রাখতে পারবেন তিনি?

ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট, তিনটি আলাদা গল্প। টি-টোয়েন্টিতে যেখানে এক বলেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র, সেখানে টেস্ট ক্রিকেট ধৈর্যের মহাকাব্য। আর এই দুই চরম ভিন্নতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পারফর্ম করা সহজ নয় মোটেও। কিন্তু শরিফুল যেন সেই চ্যালেঞ্জকেই আপন করে নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে শৃঙ্খল বোলিং, এরপর টি-টোয়েন্টিতে আগ্রাসী উপস্থিতি—দুটোতেই ছিল তার স্বাক্ষর। গতি, লাইন-লেন্থ আর বুদ্ধিদীপ্ত ভ্যারিয়েশন—সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে উঠেছিলেন এক অস্বস্তিকর নাম।

এবার মঞ্চ বদলাচ্ছে। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, আর ফরম্যাট টেস্ট। এখানেই আসল পরীক্ষা। তবে শরিফুলের জন্য এই চ্যালেঞ্জটা একেবারে অচেনা নয়। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে পিএসএল খেলেছেন তিনি। যদিও সেটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট, তবুও পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যাটারদের খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তার। ড্রেসিংরুম ভাগ করেছেন বাবর আজমদের সাথে, বোলিং করেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আঘাদের বিপক্ষে। তাদের শক্তি যেমন দেখেছেন, তেমনি দুর্বলতাও বুঝে নিয়েছেন নিখুঁতভাবে।

এই অভিজ্ঞতাই হতে পারে তার বড় অস্ত্র। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিপক্ষকে জানাটা অনেক বড় সুবিধা। কোন ব্যাটার শর্ট বলে দুর্বল, কে ইনসুইং সামলাতে হিমশিম খায়—এই ছোট ছোট তথ্যই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। শরিফুল নিশ্চয়ই সেই তথ্যগুলোই কাজে লাগাতে চাইবেন।

তবে টেস্ট ক্রিকেটে সফল হতে হলে শুধু স্কিল নয়, প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা। লম্বা সময় ধরে একই লাইন-লেন্থে বল করা, উইকেট না পেলেও ধৈর্য না হারানো—এই গুণগুলোই একজন পেসারকে আলাদা করে তোলে। শরিফুল কি সেই ধৈর্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন? উত্তরটা সময় বলবে।

তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—শরিফুল এখন কেবল একজন ফাস্ট বোলার নন, তিনি হয়ে উঠছেন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের নির্ভরতার প্রতীক। সাদা বলের উজ্জ্বলতা পেরিয়ে যদি লাল বলেও নিজের ছাপ রাখতে পারেন, তাহলে এই যাত্রা হয়ে উঠবে সত্যিকারের পূর্ণতা পাওয়ার গল্প।

Share via
Copy link