ভারতের টেস্ট দলে বৈভবের জায়গা কোথায়?

ওপেনিং থেকে ইনিংসের শুরু করা থেকে ফিনিশারের ভূমিকা, বৈভব সুরিয়াভানশি যেন এক অপূর্ণ ধাঁধার শেষ টুকরো।  

ক্রিকেট ময়দানে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু নক্ষত্রের উদয় হয়, যাদের প্রতিভা ক্রিকেটের ব্যাকরণের নিয়ম আর বয়সের গণ্ডি মানতে চায় না। বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটের আনাচে-কানাচে তেমনই এক কিশোরের নাম উচ্চস্বরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, নামটা বৈভব সুরিয়াভানশি। রঙিন পোশাক আর সাদা বলের লড়াই পেরিয়ে এই কিশোরকে ঘিরে স্বপ্ন উঠছে টেস্টের সাদা পোশাক আর লাল বলের শিল্পের। 

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তাঁর ব্যাটের আঘাতে মুগ্ধ ক্রিকেটবোদ্ধারা। টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডের সীমিত ওভারের চৌকাঠ পেরিয়ে এখন তাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে এক দীর্ঘমেয়াদী ভাবনা। সাদা পোশাকের আভিজাত্যে ভারতের হয়ে টেস্ট অভিষেক। প্রশ্ন উঠেছে, আটটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ এই কিশোরকে কি এখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উত্তাল সমুদ্রে ছুড়ে দেওয়া উচিত? তার মেন্টর জুবিন ভারুচার মতে, উত্তরটি ‘হ্যাঁ’।

ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে ১৯৮৯ সালটি ছিল এক সন্ধিক্ষণ। সেবার এক ১৬ বছরের কিশোরকে পাকিস্তানের বিধ্বংসী বোলিং আক্রমণের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল বিসিসিআই। সেই বাজি হারেনি ভারত; বিশ্ব পেয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারকে। ভারুচার বিশ্বাস, বৈভবের ক্ষেত্রেও সেই একই লিপ অফ ফেইথ দেওয়ার সময় এসেছে। 

ভারুচার ভাষায়, “স্কোর বা স্ট্রাইক রেটের মতো যেকোনো মানদণ্ডেই বৈভব পাইপলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আমার মনে হয় শচীনের মতো তাকেও এখনই সরাসরি মূল স্রোতে নামিয়ে দেওয়া উচিত।” এই অসম সাহসিকতাই যেন পারে বৈভবের ভেতরের ইস্পাতসম মানসিকতাকে ঝালিয়ে নিতে।

তবে বৈভবকে কেবল একজন মারকুটে ওপেনার হিসেবে ভাবলে ভুল হবে। তার ব্যাটিং শৈলীর ব্যপ্তি আরও বড়, যার পূর্ণ প্রকাশ ঘটতে পারে মিডল অর্ডারে। ভারুচা মনে করেন, ব্যাটিং লাইনের পাঁচ অথবা ছয় নম্বর পজিশনে বৈভব সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হতে পারেন। যেখানে বর্তমানে ঋষাভ পান্ত বা রবীন্দ্র জাদেজার মতো তারকারা খেলেন। 

ষাট বা সত্তর ওভারের পর যখন প্রতিপক্ষ বোলাররা ক্লান্ত, তখন বৈভবের কুইকফায়ার ক্যামিও খেলার ক্ষমতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ভারুচার পর্যবেক্ষণে বৈভবের শক্তির জায়গাটি বেশ অদ্ভুত। সে কখনো ক্রিজে নিজেকে অতিরিক্ত সঁপে দেয় না, বরং ব্যাকফুটে থেকে খেলা নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি বলেন, ‘কঠিন উইকেটে যেখানে বল মুভ করে, সেখানে ফ্রন্টফুট আগেভাগে ব্যবহার না করাটাই হলো ব্যাটিংয়ের হলি গ্রেইল।’

অবশ্য বিদেশের মাটিতে, বিশেষ করে লিডসের মতো মেঘলা পরিবেশে নতুন বলের মুখোমুখি হওয়া এই বয়সে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ব্যাঙ্গালুরুর মতো উইকেটে সে যেকোনো পজিশনেই শাসন করতে পারে। ওপেনিং থেকে ইনিংসের শুরু করা থেকে ফিনিশারের ভূমিকা, বৈভব সুরিয়াভানশি যেন এক অপূর্ণ ধাঁধার শেষ টুকরো।  

যদি সময়ের সাথে বৈভব লাল বলের অলগলি বুঝে নিতে পারে, তবে ভারতের টেস্ট ইতিহাসে সে কেবল এক নতুন নাম হবে না, হবে এক নতুন যুগের সূচনা। ১৫ বছরের এই কিশোরের ব্যাটে ভর করেই কি তবে আগামী দিনের নীল মানচিত্র আঁকছে ভারত? উত্তরটা হয়তো সময়ের গর্ভেই লুকিয়ে, কিন্তু প্রত্যাশার পারদ এখনই আকাশচুম্বী।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link