নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলোচনা কখনো থামে না। সাদা বলে যাই হন না কেন, টেস্ট ক্রিকেটে শান্ত যেন একেবারেই ভিন্ন একজন ব্যাটার। এখানে তিনি শুধু রান করেন না, নিজের ব্যাটিং দিয়ে বারবার প্রমাণ করেন, লাল বলের ক্রিকেটটাই সম্ভবত তার আসল জায়গা।
মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে আবারও সেই পরিচিত দৃশ্য দেখা গেল। শেষ আটটি ইনিংসে চতুর্থ সেঞ্চুরি পেয়ে গেলেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। শুরুতেই দুই ওপেনার ফিরে যাওয়ার পর যখন বাংলাদেশ ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত, তখন দলের হাল ধরলেন অধিনায়ক শান্ত।
পাকিস্তানি বোলারদের ভালো বলগুলো ঠাণ্ডা মাথায় সামলেছেন, আবার সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি তুলে নিয়েছেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে। মমিনুল হক যখন ধীরগতিতে ইনিংস গড়ছিলেন, তখন শান্ত খেলেছেন অনেকটা ওয়ানডে মেজাজে। তবে সেই আগ্রাসনের মধ্যেও ছিল নিয়ন্ত্রণ। ভুল লাইনে বল হলেই কড়া শাস্তি দিয়েছেন। ড্রাইভ, কাট, পুল— সব শটেই ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ।

ইনিংসের ৫৩ তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে যখন তিন অঙ্ক ছুঁলেন, তখন সেটা ছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম শতক। শান্ত এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছে গেছেন যেখানে শতরান করা যেন তার কাছে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেয়ে গেলেন ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি।
টেস্ট ক্যারিয়ারে শান্তর পরিসংখ্যানও এখন বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। পাঁচটি ফিফটির বিপরীতে সেঞ্চুরি হয়ে গেছে নয়টি। অর্থাৎ, ১৪ বার পঞ্চাশ পার করার পর ৯ বারই সেটাকে শতকে রূপ দিয়েছেন তিনি। তার সেঞ্চুরি কনভারশন রেট এখন ৬৪ শতাংশের কাছাকাছি। টেস্ট ইতিহাসে এই তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল কিংবদন্তি জর্জ হেডলি আর স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের মতো নাম।
তবে শান্তকে নিয়ে একটা আক্ষেপ থেকেই যায়। তিনি শতক পাওয়ার পর খুব বেশিক্ষণ থাকলেন না। এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও সেঞ্চুরির পর দ্রুত আউট হয়েছিলেন। এবারও ঠিক তাই হলো। ১৩০ বলে ১০১ রান করার পর লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। অথচ শান্তর ব্যাটিং দেখলে মনে হয়, তার ডাবল সেঞ্চুরি করার সামর্থ্য আছে। শুধু শতক নয়, ইনিংসকে আরও বড় করার সেই ক্ষুধাটাই হয়তো এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।











