উৎসবের আড়ালে অশনিসংকেত

আমেরিকার মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে বড় ধরনের কোনো অঘটনের বাস্তব সম্ভাবনা এখন আর কেবল আশঙ্কা নয়, বরং এক রূঢ় বাস্তবতা।

​দরজায় কড়া নাড়ছে ক্রীড়াবিশ্বের সবচাইতে বড় মহোৎসব ‘ফিফা বিশ্বকাপ’। উত্তরের দেশগুলোতে ফুটবল উৎসবের ডামাডোলের সাথে সাথে এখন দেখা দিচ্ছে বিপদ সংকেত। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাসেও এই প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। আমেরিকার মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপে বড় ধরনের কোনো অঘটনের বাস্তব সম্ভাবনা এখন আর কেবল আশঙ্কা নয়, বরং এক রূঢ় বাস্তবতা।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার তিন দেশ – যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে বসবে ফুটবলের এই আসর। তবে টুর্নামেন্টের সিংহভাগ গুরুভার থাকছে যুক্তরাষ্ট্রের কাঁধে। ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই আয়োজিত হবে মার্কিন শহরগুলোতে।

আর এখানেই দেখা দিয়েছে আসল বিপত্তি। মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এই আসরকে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা গার্ডিয়ান’ এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এফবিআই এজেন্ট আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার একটা বাস্তবিক ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। এবারের টুর্নামেন্টে দল এবং ভেন্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গোয়েন্দাদের জন্য এক হিমালয়সম চ্যালেঞ্জ।’

সাবেক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বিশেষজ্ঞ জাভেদ আলীর মতে, শুধুমাত্র স্টেডিয়াম নয়, দর্শকদের যাতায়াতের প্রতিটি সংযোগস্থলের নিরাপত্তা বজায় রাখার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ এই মুহূর্তে কর্তৃপক্ষের নেই।

সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনবহুল এলাকায় একাকী হামলাকারীদের তৎপরতা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলার চেষ্টার পেছনে গোয়েন্দাদের মধ্যে যে কমিউনিকেশন গ্যাপ দেখা গিয়েছিল, বিশ্বকাপের মতো বিশাল আসরে তার পুনরাবৃত্তি ঘটলে তা হবে ভয়াবহ।

মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই নিরাপত্তার এই ভঙ্গুর ছবি ফুটবলপ্রেমীদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশ্ববাসী চায় একটি নিশ্ছিদ্র উৎসব, কিন্তু বাস্তবতার কঠিন দেয়াল যেন বারবার সেই প্রত্যাশাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link