২২ গজের লড়াইয়ে যখন দুই দল মুখোমুখি হয় তখন চোখ রাঙায় একে অন্যের দিকে। কিন্তু, বিশ্বক্রিকেটের ময়দানে মোড়ল দেশগুলোর আধিপত্যের জাল থেকে বেরিয়ে আসতে এবার বন্ধু হলো বাংলাদেশ আর পাকিস্তান।
২০২৮-৩১ চক্রের ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামে (এফটিপি) নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে এবং বিশ্বমঞ্চে ভারত, ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার একচ্ছত্র আধিপত্যের মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হাত মিলিয়েছে দুই ক্রিকেট বোর্ড। এটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা নয়, বরং ক্রিকেট মানচিত্রে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার নতুন লড়াইয়ের পূর্বাভাস।
মাঠের লড়াই তো নিয়মিত চলে, কিন্তু, মাঠের বাইরের এই গোপন বৈঠক যেন এক শান্ত ঝড়ের ইঙ্গিত। সম্প্রতি পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির ঢাকা সফর কেবল একটি সাধারণ সফর ছিল না। তামিম ইকবালের সাথে তাঁর নিভৃত আলাপচারিতা জানান দিচ্ছে যে, এশিয়ান ক্রিকেটে আসতে চলেছে এক বড় পরিবর্তন। দুই দেশের সবুজ জার্সি যখন এক সুরে কথা বলে, তখন সেই প্রতিধ্বনি আইসিসির সদর দপ্তর অবধি পৌঁছাতে বাধ্য।

এই মিলনের সুর বেজেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকারে। দুই দেশই একমত যে, টেস্ট ক্রিকেটে ‘টু-টায়ার’ ব্যবস্থার যে কোনো চাল তারা রুখে দেবে। বড় দলগুলোর পকেটে যখন সিংহভাগ ম্যাচ আর সুযোগ জমা থাকে, তখন বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মতো দলগুলো যেন কেবল পার্শ্বচরিত্র হয়ে না থাকে।
সময়ের স্রোতে যখন গুঞ্জন উঠেছিল যে বাংলাদেশের বর্তমান প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট মেরুর দিকে ঝুঁকে পড়ছে, তখন সেই সংশয়ের কুয়াশা সরিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ যেমন দেখবে, ঠিক তেমনি বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের মতো বিশ্বস্ত বন্ধুর পাশেও থাকবে। একটি শক্তিশালী এশিয়ান ব্লক তৈরির মাধ্যমে আইসিসিতে নিজেদের গুরুত্ব বাড়ানোই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
বর্তমান ক্রিকেট রাজনীতির আসল চিত্র তুলে ধরে এনডিটিভির কাছে একটি সূত্রের কথা। যিনি বলেন, ‘দুই বোর্ড একমত হয়েছে যে বর্তমানে ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিংহভাগ ম্যাচ পায়, যেখানে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশগুলো সূচিতে যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।’

২০২৭ পরবর্তী আইসিসির লভ্যাংশ বণ্টনেও যাতে ছোট-বড় ব্যবধান ঘুচে যায়, সেই দাবি নিয়ে এখন তারা একজোট। এটা কেবল টেবিল-চেয়ারের বৈঠক নয়; এটি হলো বঞ্চিতদের কণ্ঠস্বর।
সূত্র দাবি করেছে, ‘নাকভি এবং তামিম দুজনেই একমত হয়েছেন যে তারা অন্যান্য বোর্ডগুলোর সাথে কথা বলবেন এবং আইসিসি পর্যায়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে এশিয়ান বা আইসিসি পর্যায়ে প্রতিটি বিষয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একে অপরকে সমর্থন করবে।’
শেষ বিচারে, ক্রিকেটের জয় হোক সমতায়। পদ্মা আর সিন্ধু নদের জল যেভাবে সাগরে মেশে, তেমনি দুই দেশের ক্রিকেটীয় আবেগ আর স্বার্থ এবার একই মোহনায় মিলিত হয়েছে। ভারসাম্যপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে দুই দেশের এই মিলন বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন দেখার বিষয়, এই জোটের শক্তিতে কতটুকু কেঁপে ওঠে ক্রিকেটের প্রথাগত মোড়লদের আসন।











