বোলিং করা ছিল তাঁর কাছে ভিষণ ক্লান্তিকর। চেয়েছিলেন শুধুই একজন ব্যাটার হতে। কিন্তু নিয়তি তাকে বানালো আইপিএলের ম্যাচ উইনিং অলরাউন্ডার। তিনি দিল্লী ক্যাপিটালসের ২২ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি মাধব তিওয়ারি।
মাধবের ক্রিকেটে আসার গল্পটা আর পাঁচটা অলরাউন্ডারের মতো নয়। তার হৃদয়ের সবটুকু জুড়ে ছিল কেবল ব্যাটিং। শৈশবে ইন্দোরের মাঠে যখন কোচরা তাকে বোলিং করার পরামর্শ দিতেন, তখন কিছুটা অনীহা নিয়েই বল হাতে নিতেন মাধব।
ম্যাচ শেষে মাধব বলেন, ‘আমি ব্যাটিং করতে খুব পছন্দ করতাম। আমি ব্যাটসম্যান হতে চেয়েছিলাম। বোলিং করা ছিল খুব ক্লান্তিকর। এতে শরীরের অনেক পরিশ্রম হয়। ব্যাটিং করা আমার কাছে সহজ মনে হয়।’

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও প্রখ্যাত কোচ অময় খুরাসিয়া মাধবের মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন এক পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেটারের বীজ। গুরুর সেই জেদ আর শাসনের কাছে নতি মেনেই শুরু হয় মাধবের অলরাউন্ডার হওয়ার কঠোর সাধনা।
মাধবের এই সাফল্যের পেছনের কারিগর তার পরিবার। বাবা ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার সাথে যুক্ত হলেও ছেলের ক্রিকেটের সুবিধায় কখনো অভাব হতে দেননি। মজার বিষয় হলো, মাধবের মা ক্রিকেটের মারপ্যাঁচ বা নন্দনতত্ত্ব খুব একটা বোঝেন না। কিন্তু তাঁর প্রার্থনা আর নীরব সমর্থনই মাধবকে আজ এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
আইপিএলের দ্বিতীয় বছরে এসে মাধব এখন অনেক বেশি পরিপক্ক। তবে সাফল্য তাকে মাটিতেই রেখেছে। তার লক্ষ্য আকাশছোঁয়া। ভারতের হয়ে খেলা এবং বিশ্বসেরা হওয়া। তবে সেই লক্ষ্যের পথে নিজের খামতিগুলোও তার অজানা নয়। মাধব জানেন, খেলায় আরও ধার আনা প্রয়োজন, আরও নিখুঁত হতে হবে আগামী দিনে।

পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ সেরা হওয়ার এই দিনে মাধব ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। প্রথমে বল হাতে দুর্দান্ত ডিসিপ্লিন দেখিয়ে শিকার করেন দুই উইকেট। এরপর চাপের মুখে অপরাজিত ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। বল আর ব্যাটের এই দারুণ সমন্বয়ই দিল্লিকে এনে দেয় মহাগুরুত্বপূর্ণ এক জয়।











